শার্শা সংবাদদাতা :
যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের একটি জরাজীর্ণ টালির ঘরে বসবাস করেন দিনমজুর শরিফুজ্জামান মিলন ও তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার।

তাদের যমজ দুই ছেলে সাজেদুল ইসলাম মাহি ও সাকিবুল ইসলাম রাফি জন্মের পর থেকেই গুরুতর প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত। বর্তমানে তাদের বয়স ১৬ বছর হলেও তারা কথা বলতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না এবং নিজের দৈনন্দিন কাজও করতে অক্ষম।

দুই সন্তানকে প্রতিদিন কোলে করে গোসল করানো, খাওয়ানো, কাপড় পরিবর্তন, টয়লেটে নেয়াসহ সব দায়িত্ব পালন করেন বাবা-মা। বয়স ও ওজন বাড়ায় তাদের পরিচর্যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শরিফুজ্জামান মিলন দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। অনিয়মিত আয়ের কারণে দুই সন্তানের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মা তাসলিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একজন মা হিসেবে সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমার সন্তানরা কোনো দিন আমাকে ‘মা’ বলে ডাকতে পারেনি।”

স্থানীয়দের দাবি, পরিবারটিকে অন্তত দুটি হুইলচেয়ার, উন্নত চিকিৎসা এবং একটি নিরাপদ বসতঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, পরিবারটির লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে।

Share.
Exit mobile version