বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরের ঝিকরগাছায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েও মেডিকেল সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন মুর্শিদা আক্তার (রেনুকা) নামের এক গৃহবধূ। মামলার তদন্তে গাফিলতি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি। তবে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানিয়েছেন এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেযা হবে।

রোববার যশোর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মুর্শিদা আক্তার অভিযোগ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিওরদাহ গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারকে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়িতে রান্নাঘর মেরামতের কাজ চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়া হয়। হামলার সময় তাকে শ্লীলতাহানিরও শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি সাত দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান।

ঘটনার পর তিনি ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ ঝিকরগাছা আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জি.আর-৪৬/২৫ নম্বরে রুজু হয়। আদালতের নির্দেশে প্রথমে ঝিকরগাছা থানা, পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সর্বশেষ জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

মুর্শিদা আক্তার অভিযোগ করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কোনোটি তার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেনি। দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে তার অভিযোগের মিল না থাকায় তিনি একাধিকবার নারাজি আবেদন করেছেন। এরপরও কাঙ্খিত ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত থেকে মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেযা হবে।

Share.
Exit mobile version