বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর জেলা মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি, বিশিষ্ট রোটারিয়ান, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ফজলে রাব্বি মোপাশা আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুতে যশোরের সামাজিক, ব্যবসায়িক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
মোপাশার ছোট বোন বিপাশা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ তার বুকে ব্যথা অনুভূত হলে তাকে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে নেয়া হয় ঢাকার মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে। রাতে হার্টে রিং পরানোর কথা ছিলো। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই বোন, আত্মীয়-স্বজন, অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে ঢাকার সোবহানবাগ জামে মসজিদের সামনে মোপাশার প্রথম জানাজার পর মরদেহ যশোর শহরের বস্তাপট্টি মোড়স্থ নিজ বাসভবনে আনা হবে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর চৌরাস্তা জামে মসজিদের সামনে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফজলে রাব্বি মোপাশার বাবা ফজলুল বারি ছিলেন যশোরে সনামধন্য পূর্বাচল প্রেসের সত্বাধিকারী। সেই সূত্রে তিনি ওই প্রেস পরিচালনা করতেন। সর্বশেষ তিনি যশোর জেলা মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট অ্যাসেসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মোপাশা ১৯৮২ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ক্যান্টনমেন্ট কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসেসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভিপতিও ছিলেন তিনি। এছাড়া যশোর জেলা বিএনপির সাবেক প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ফজলে রাব্বি মোপাশা দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সংগ্রহশালায় আছে জিয়াউর রহমানের দুর্লভ অনেক স্মৃতি ও ছবি।
ফজলে রাব্বি মোপাশার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর ৯৪ বন্ধু ফোরামের সভাপতি সাইদুজ্জামান সহিদ এবং সাধারণ সম্পাদক ডক্টর কাজী কামরুল ইসলাম পারভেজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
