কাজী নূর
যশোরের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশিরভাগ পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ করে বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে আগে যেখানে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু দোকানে ৭৮০ টাকায় বিক্রির তথ্যও পাওয়া গেছে। দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শুক্রবার সকালে শহরের কাঠেরপুল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংসের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও দাম নিয়ে দরকষাকষি চলছে। অনেকেই বাড়তি দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মাংস কিনতে আসা শহরের বরফকল মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, সাড়ে সাতশ টাকার মাংস এখন আটশ টাকা। পরে আবার ২০ টাকা কমিয়ে ৭৮০ টাকা নেয়। এসব ভোক্তাদের সঙ্গে মসকরা ছাড়া কিছু না। আসলে আমরা জিম্মি। মুখে প্রতিবাদ করা ছাড়া কিছু করার নেই।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গরুর সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সাব্বির বিফ হাউজের পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, হাটে গরু মিলছে না। গৃহস্থরা কোরবানিকে টার্গেট করে গরু হাটে তুলছে না। যা দু-একটা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে মাংসের দাম বাড়াতে হচ্ছে।

অন্যদিকে যশোর বিফ হাউজের পরিচালক শওকত আলী জানান, আমরা ৭৮০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করছি। এতে লাভের পরিমাণ কম হলেও ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।

শহরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার ও ঘোপ বউ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। সবজি, মুরগি, ডিম ও ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি ১২ শ থেকে ২৮ শ টাকা,পাঙ্গাস ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, মিচুড়ি ৫০ টাকা, শিম ২০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, বিটরুট ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, মটরশুঁটি ৪০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা (পিস), মুরগির মাংস জাতভেদে ১৯০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৭০ টাকা,সবুজ শাক ২০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, ডাটা ৪০ টাকা, ব্রকোলি ৮০ টাকা, মেটে আলু ৮০ টাকা, কলা ৪০ টাকা, উচ্ছে ১৬০ টাকা, আলু ৭ কেজি ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।

সাজিদ হাসান নামে এক ক্রেতা বলেন, অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গরুর মাংসের বাড়তি দাম তাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে। বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানিকে সামনে রেখে গরুর সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মাংসের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Share.
Exit mobile version