বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার হালসা গ্রামে বুকভরা বাওড় সংলগ্ন মাঠের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে এক রাতে আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে ওই ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হয় বলে জানা গেছে।

ট্রান্সফরমার চুরির ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ওই অঞ্চলের বোরো চাষিরা। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায় সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ বিঘা জমির বোরো ধানের আবাদে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। ধানের শীষ আসার মুহূর্তে সেচ দিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন ওই গ্রামের দেড় শতাধিক কৃষক।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে হালসা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাওড়পাড়ে বসে আছেন কয়েকজন কৃষক ও মোটর (স্যালো পাম্প) চালক। পাম্পচালক ওলিয়ার রহমান জানান, ২৯ মার্চ ভোরে তিনি বাওড়পাড়ে স্থাপন করা মোটর চালু করতে যান। তখন মোটর চালু না হওয়ায় দেখতে পান বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ট্রান্সফরমার নেই। এরপর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন আরও দুটি মোটর চলছে না। পরে জানতে পারেন, মোট আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে।

তিনি বিষয়টি অঞ্চলের কৃষক মোস্তফা ঢালি, হযরত আলী, জাহিদুল ইসলাম, মোরশেদ আলীসহ অনেককে জানান। তারা মাঠে এসে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি দেখতে পান। তারা দেখেন, ট্রান্সফরমারের উপরের অংশ খোলা মাঠে পড়ে আছে, কিন্তু ভেতরের তামার কয়েল নেই।

বিষয়টি তারা কোতোয়ালি থানা পুলিশকে অবহিত করে জিডি করেন। কৃষি অফিসেও সংবাদ পাঠান। এরপর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতেও যোগাযোগ করেন।

কৃষক মোরশেদ আলী বলেন, স্যালো মেশিনের সাহায্যে বাওড় থেকে পানি উঠিয়ে তারা মাঠে সেচ দেন। গ্রামের হযরত আলীর দুটি মোটর এবং হালসা বুকভরা (পশ্চিমাংশ) সমবায় সমিতির নামে আরও একটি মোটর স্থাপন করা হয়েছে। ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে অজ্ঞাত চোরচক্র হযরত আলীর মোটর সংযোগের পাঁচটি এবং সমিতির মোটর সংযোগের তিনটি—মোট আটটি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে।

এই তিনটি মোটরের মাধ্যমে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ বিঘা জমির ফসলে সেচ দেওয়া হতো। গত চারদিন ধরে সেচ বন্ধ রয়েছে। মাঠে পানি নেই। অথচ এখনই ধানের শীষ আসা শুরু হয়েছে। এই সময়ে ধানের মাঠে প্রচুর সেচ প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। অতি শিগগির সেচ দিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।

বুধবার দুপুরে মাঠ পরিদর্শনে আসেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন। তারা জানান, মাঠে এই মুহূর্তে পানির খুবই প্রয়োজন। পানি না থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। বাওড় থেকে সেচ মাঠে দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

হালসা বুকভরা বাওড় সমবায় সমিতির সদস্য কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ট্রান্সফরমারের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখান থেকে বলা হয়েছে, ট্রান্সফরমার কিনে দিলে তারা সংযোগ স্থাপন করে দেবেন। প্রতিটি ট্রান্সফরমারের খরচ হবে ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আটটি ট্রান্সফরমার কিনতে মোট খরচ হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে যদি ট্রান্সফরমার কিনতে হয়, তাহলে কৃষকদের ঋণ নিতে হবে। এখনই ঋণ পাওয়াও সম্ভব নয়। ফলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। তারা বিষয়টি দেখার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান খান বলেন, “প্রতিটি ট্রান্সফরমারের জন্য ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। যাদের প্রয়োজন তারা কিনে দিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সেটি স্থাপন করে দেবে। আর সরকারিভাবে কোনো উৎস পাওয়া যায় কি না, সে চেষ্টাও করতে হবে।”

Share.
Exit mobile version