বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলায় এখনো নির্মাণই শেষ হয়নি এমন একটি অটো রাইস মিলের নামে চাল উৎপাদনের জন্য সরকারি ধান বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন মিল মালিক যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এস.কে. অটো রাইস মিল ইউনিট-২ নামে কোনো কার্যকর অটো রাইস মিল না থাকলেও ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকারি ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় যশোর সদর উপজেলায় ইলা অটো রাইস মিল, এরোস্টো ফুড-১, এরোস্টো ফুড-২, এরোস্টো ফুড-৩, আব্দুস সালাম অটো রাইস মিল ইউনিট-১, আব্দুস সালাম অটো রাইস মিল ইউনিট-২, এস.কে. অটো রাইস মিল এবং এস.কে. অটো রাইস মিল-২সহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এস.কে. অটো রাইস মিল-২-এর বাস্তব অস্তিত্ব ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ অটো রাইস মিল পরিচালনার জন্য পারবয়েলিং ইউনিট, ড্রায়ার, বয়লার, সাইলো, গুদামঘরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এস.কে. অটো রাইস মিল-২-এর ক্ষেত্রে এসব সুবিধার অস্তিত্ব নেই। এরপরও প্রতিষ্ঠানটির নামে সরকারি ধান সংগ্রহের বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী ইনতার আলী তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এস.কে. অটো রাইস মিল প্রতিষ্ঠার সময় এর পাক্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৮৩২ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন। পরে একই অবকাঠামো বহাল রেখে তা ১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন এবং পরবর্তীতে ২ হাজার ১০০ মেট্রিক টনে উন্নীত দেখানো হয়। বাস্তবে অবকাঠামোগত কোনো উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ছাড়াই উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া এস.কে. অটো রাইস মিলের সঙ্গে একটি হাস্কিং মিল দেখানো হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় চাতাল, হাড়ি, শুলার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে একটি আতপ মিলের লাইসেন্স নিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন দেখানো হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এস.কে. অটো রাইস মিল নামে নতুন একটি মিলের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রেও যথাযথ সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একটি নতুন অটো রাইস মিল স্থাপনের জন্য পারবয়েলিং ইউনিট, ড্রায়ার, একাধিক বয়লার, শেড ও গুদামঘরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার কথা থাকলেও সেসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিল মালিক বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তবে মিল নেই বা উৎপাদন সক্ষমতা নেই, তাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

অভিযোগের বিষয়ে এস.কে. অটো রাইস মিলের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আমির আলী বলেন, ‘এস.কে. অটো রাইস মিল-২-এর কার্যক্রম খুব শিগগিরই চালু হবে। বর্তমানে সেখানে নির্মাণ কাজ চলছে।” নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা জেলা খাদ্য অফিসে আবেদন করেছিলাম।

সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বরাদ্দ পেয়েছি।’
এ বিষয়ে যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান বলেন, ‘এস.কে. অটো রাইস মিল মূলত আতপ চাল উৎপাদন করে। তবে চলতি মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধ চাল উৎপাদনের জন্য আবেদন করেছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তাদের সিদ্ধ চাল উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

Share.
Exit mobile version