বাংলার ভোর প্রতিবেদক
গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া নতুন একটি ১৪ টনের ট্রাক যশোরে এনে কেটে বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের বকচর এলাকার খাদেম মার্কেটে এ ঘটনা
ঘটলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গাড়িটি কেটে টুকরো করার কাজ চলাকালীন ইফাত অটোসের কর্মকর্তার সন্দেহে পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। খাদেম মার্কেটের এহসান মোটরস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ট্রাকটি কাটার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।
ইফাত অটোসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, গাজীপুরের কাপাশিয়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. রোকনের মালিকানাধীন একটি ১৪ টনের ট্রাক—রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১৫-৯৯০৬, ইঞ্জিন নম্বর mhhz407640 এবং চ্যাসিস নম্বর mb1a2hac4mrhn3629—গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। ট্রাকটি দুই বছর আগে কিস্তিতে ইফাত অটোস থেকে কেনা হয় এবং এখনো এর সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ট্রাকটি নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হয়। সোমবার সকালে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বকচর এলাকায় এসে দেখতে পান, তাদের কোম্পানির বিক্রি করা একটি নতুন ট্রাক বডি আলাদা করে কাটার কাজ চলছে। পরে চ্যাসিস নম্বর যাচাই করে নিশ্চিত হন—এটিই সেই চুরি হওয়া ট্রাক।
কামরুল ইসলাম আরও বলেন, “গাড়িটি সম্পূর্ণ নতুন ছিল। কিন্তু এখানে এনে কেটে ফেলার প্রস্তুতি চলছিল। ট্রাকের মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একেক সময় একেক ধরনের অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন, যা আমাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।”
তিনি জানান, ট্রাকের প্রকৃত মালিক মো. রোকন ইতোমধ্যে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এহসান মোটরসের মালিক আহসান মাহমুদ দাবি করেন, তিনি অন্য এক পক্ষের কাছ থেকে ট্রাকটি কিনেছেন। তবে সেই পক্ষের পরিচয় কিংবা বৈধ কাগজপত্র সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন,
“যাদের কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছি, তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত কথা বলব।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন,
“এ বিষয়ে এখনো আমাদের কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

