বাংলার ভোর প্রতেবেদক
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের বাসিন্দা গোলাপী খাতুন জমি দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে গোলাপী খাতুন বলেন, তিনি দোহাকুলা মৌজায় দাগ নং ৭৭৫ ও খতিয়ান নং ১৩৩৩ এর মোট ১০ দশমিক ৫০ শতক জমি দুই দফায় ক্রয় করেন। প্রথমে ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতক এবং একই বছরের ১০ নভেম্বর মইনুল ইসলামের কাছ থেকে আরও ৫ শতক জমি ক্রয় করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জমি ক্রয়ের পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তারেক (৩২), মিঠু (৪৫), লিটন হোসেন (৪০), জিহাদ (১৯), তরিকুল ইসলাম (৪৬), সোহাগ (৩২)সহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
গোলাপী খাতুন বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি তার ক্রয়কৃত জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়, রোপণ করা গাছ উপড়ে ফেলে এবং নির্মাণ সামগ্রি নষ্ট করে। এ সময় তারা ঘর নির্মাণ চালিয়ে যেতে হলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা আবারও তার জমিতে গিয়ে চাঁদার টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তার ভাই মো. লিটন ও মা লালভানু বাধা দিলে তাদের রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
গোলাপী খাতুন আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা সাইড ব্যাগ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার সময় নুরুল ইসলাম, মীম ও মনির উদ্দীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও এখনো তা মামলা হিসেবে রুজু হয়নি। ফলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাপী খাতুন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোলাপী খাতুনের ভাই মো. লিটন, মা লালভানু, বাবা নুরুল ইসলাম এবং তার দুই মেয়ে মিম খাতুন ও রিমি খাতুন।
