হিমেল খান :
টানা মুষলধারা বৃষ্টিতে যশোর শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে শহরের অধিকাংশ এলাকা। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শুক্রবারা দুপুর পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলায় সড়ক, বাসাবাড়ি,হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চরম ভোগান্তীতে পড়েছেনে নগরবাসী। নগরবাসীর অভিযোগ,শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান উৎস পরিষ্কার না করাই এই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রতিবছরের মতো এবারও সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পৌরসভা কর্মকর্তারা দিচ্ছেন সেই পুরোন আশ্বাস। তারা বলছেন, পানি নামার সময় দিতে হবে।
যশোরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে চলছে। ফলের যশোর পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। শহরের রাস্তা ও বাড়ি-ঘরে পানি জমে গেছে। পানিতে বিকল হচ্ছে যানবাহন ও স্বাস্থ সেবা, ডুবে গেছে হাসপাতালও। ভোকান্তিতে পড়েছেন ভর্তি রোগীদের স্বজনরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শহরের ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হয় শহরের দক্ষিণের হরিণার বিল হয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে। আর মহল্লার ভিতরের ছোট ড্রেন দিয়ে এ পানি গিয়ে পড়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় একটি ড্রেনে। এই ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয় হরিণার বিলে। কিন্তু হরিণার বিলের প্রধান ড্রেনটি মুখ প্রসস্থ না থাকায় পানির স্বাভাবিক নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
শহরের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার একটি মাত্র ড্রেন রয়েছে। সেখান দিয়ে শহরের সব ওয়ার্ডের পানি বের হয়। তবে ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কারা করা হয় না।
একই এলাকার বাসিন্দা কামাল জানান, ড্রেনটি খুবই ছোট তাই বর্ষার পানি সহজে বের হতে পারে না।
এই বর্ষায় ডুবে গেছে মানুষের ঘর-বাড়ি। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষ ঘরে পানি সেচে বাইরে ফেলছে। এই চিত্র শহরের ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৯ নম্বর ওর্ডের।
ডুবে গেছে রাস্তার পাশে থাকা হোটেল। মাইনুদ্দিন নামের এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, টানা বৃষ্টিতে ড্রেন গুলো ভরাট হয়ে পানি উঠেছে তার হোটেরের ভিতর। ফলে হোটেল বন্ধ করে পানি সেচতে হচ্ছে তাকে।
শহরের ৯ নম্বর ওযার্ডের বাসিন্দা নাছিমা বেগম জানান, টানা বৃষ্টির কারণে তার ঘরের ভেতরে পানি উঠেছে। পানি সেচেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তিনি।
এদিকে যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সেই পুরোন আশ্বাস দিচ্ছেন।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু বলছেন, শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি মাত্র প্রধান ড্রেন থাকায় পানি নামতে সময় লাগছে। তবে সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ এলাকার জমে থাকা পানি নেমে যাবে বলেও আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।
এদিকে যশোর বিমান বাহিনীর মতিউর রহমান ঘাঁটির আবহাওয়া দফতরের তথ্য মতে, গত রাত থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোরে ১৯৯ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি নগরবাসীর দূর্ভোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
