বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুরে শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কলেজছাত্রী শ্যালিকা মণিরামপুর থানায় মামলাটি করেন।

বুধবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভিকটিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ডা. রাফসান জনি যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত।

এদিকে, একই দিন শ্যালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য ডাক্তারের কাছে টাকা দাবি করেছে একদল সাংবাদিক এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন ডা. রাফসান জানি মামলার সূত্রমতে, ভুক্তভোগী তরুণী লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা ও রংপুরের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

২০২০ সালের শেষের দিকে তার মেজো বোন সাজেদা আফরোজ অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে দেখভালের জন্য দুলাভাই রাফসান জানি যশোর শহরের নিউমার্কেট এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। বাসায় পড়ানোর ছলে রাফসান তাকে নিয়মিত কুপ্রস্তাব দিতেন, খাতায় আপত্তিকর কথাবার্তা লিখতেন।

বিষয়টি বোনকে জানালেও সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে বোন চাকরিতে যোগ দিলে বাসায় একা পেয়ে রাফসান তাকে শারীরিক নির্যাতনে বাধ্য করেন।

ভুক্তভোগী জানান, নিজের সুবিধা অনুযায়ী রাফসান তাকে যশোরের একটি হোস্টেলে পাঠিয়ে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে যেতেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মণিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তিন মাস অবস্থান করেন। সে সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার ধর্ষণের পাশাপাশি রাফসান তার মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

গত মাসে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই রাফসান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বর্তমানে ওই ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাধ্য হয়ে প্রথমে হাতিবান্ধায় জিডি ও পরে মনিরামপুর থানায় মামলা করেছেন।

এই বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রজিউল্লাহ খান জানান, ডা. রাফসান জনির বিরুদ্ধে তার শ্যালিকা ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হাবীবা সিদ্দিকা ফোয়ারা জানান, বুধবার ভিকটিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদন আসলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান, রাফসান জানি ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও মামলার কোন তথ্য তার জানা নেই।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. রাফসান জনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার বিষয়টি শুনেছেন। বিষয়টি সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষণের ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করেছেন ডা. রাফসান জনি। তিনি জানান, তার শ্যালিকা সামিয়া আফরুজের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১০ দিন ধরে অনলাইন, পত্রিকা ও টেলিভিশনের একটি সাংবাদিক চক্র তার কাছে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করে আসছে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৫ থেকে ২০ জন কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও মানসিক হয়রানি করছে।

চক্রটি তার শ্যালিকাকে ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ ও ভিডিও তৈরি করে তাকে চাপ সৃষ্টি করেছে।

Share.
Exit mobile version