বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বই পড়া আন্দোলন, তরুণদের উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিশুদের বিনামূল্যের পাঠশালা গড়া-তিন গুণীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। যশোরে সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সামাজিক উদ্যোগভিত্তিক সংগঠন ‘ধুমঘাট’-এর তিন বছর পূর্তি উৎসবে শুক্রবার বিকেলে এ সম্মাননা জানানো হয়। প্রেসক্লাব যশোর অডিটোরিয়াম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সম্মাননা প্রাপ্ত তিনজন হলেন, যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবীর, একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন ও পেন ফাউণ্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা ইমদাদ।
তিনজন বিশিষ্ট নাগরিক তাদের উত্তরীয় পরিয়ে হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। বিশিষ্ট নাগরিকেরা হলেন, ঝিনাইদহের সরকারি কে.সি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডক্টর বিএম রেজাউল করিম, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দৌলা ও যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেডএম সালেক।
তিন বছর পূর্তি উৎসবে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে ধুমঘাটের তিন বছর পূর্তি ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের লেখা ‘আগামীর সাংবাদিক: কিশোর বয়সেই হাতেখড়ি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরপর ধুমঘাটের তিন বছরের জার্নি বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়। এরপর ‘তারুণ্যের বাতিঘর’ শিরোনামে তিনজন গুণীকে নিয়ে আরো একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ পর্বে বইয়ের উপর আলোচনা করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক ডক্টর বিএম রেজাউল করিম, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, বইয়ের লেখক মনিরুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহবায়ক শাহেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা পাবলিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাগদীরুল গনী নিবিড় ও দীপান্বিতা সিংহ রায়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, লেখক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. বিএম রেজাউল করিম, তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে তরুণদের শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হলেই হবে না, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে। সত্য ও মানবিকতার চর্চাই আগামী দিনের সাংবাদিকতার মূল শক্তি হওয়া উচিত’।
