বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর জেলা জুড়ে একের পর এক সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফিল্মি স্টাইলে মোটরসাইকেলযোগে এসে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। ওই হত্যার পরদিনই জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ এক যোদ্ধাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত আলমগীর হোসেনের আপন জামাতা বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগরকে আটক করা হয়েছে। হুমকি-ধামকি ও জমি ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলমগীরের পরিবার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করলে তাদের আটক করা হয়। তবে মোটরসাইকেলে এসে পিস্তল ঠেকিয়ে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যাওয়া মূল হত্যাকারি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ব্যবসা সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ড। এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একাধিক পুলিশ টিম হত্যাকারিদের শনাক্তে কাজ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার সকালে যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ এনাম সিদ্দিকিকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁটার সময় অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার পথরোধ করে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েন। তার নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহতের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই যোদ্ধা আহতের বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়েছেন। এটি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটতে পারে। তিনি দাবি করেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। যশোরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
পরপর দুই সহিংস ঘটনায় যশোর জেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে।

