বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস তার ভাড়া নেয়া দোকান থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল কুদ্দুস জানান, ১৯৯৫ সালের ১ মার্চ তিনি এ.এম.এফ রহমান (খোকা)’র কাছ থেকে যশোর শহরের আরএন রোড চৌরাস্তার একটি নির্মাণাধীন ভবনের দুটি দোকানঘর ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় কেনেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পরে ২০০৭ সালে ভবনটি এ.কে.এম খয়রাত হোসেনের কাছে বিক্রি হলে তিনি নতুন করে চুক্তি করতে বাধ্য হন।
পরে, নতুন মালিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি দেখান। দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং একাধিকবার ভাঙচুর ও হয়রানি করেন।
এমনকি দোকানের ভেতর দিয়ে টয়লেটের পাইপ স্থাপন করে পরিবেশ নষ্ট করা, দোকানে নোংরা পানি প্রবাহিত করা এবং মিথ্যা অভিযোগে তাকে জড়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কুদ্দুস আরও বলেন, গত বছরের ১৫ নভেম্বর তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে তার প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সব বকেয়া পরিশোধ করার পরও সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়নি। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ১৬ থেকে ১৭ সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া ও বিল পরিশোধের দায়িত্ব তার নিজের। তাই বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দোকান থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল কুদ্দুসের ভাই হাফিজুর ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, জিয়াউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও ভাতিজা রিফাত হোসেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

