হিমেল খান
যশোরে প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছে হাম আক্রন্ত রোগী। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। একই সঙ্গে বেড়েছে টিকার চাহিদা।
প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম বলছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে একদিকে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, অন্যদিকে টিকার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তবে প্রকোপ বাড়লেও চিকিৎসায় কার্পণ্য নেই বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যশোরে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই রোগী ভর্তি হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২২ জন।
এর মধ্যে ১৫ জনই শিশু, যাদের বয়স ৫ মাস থেকে ৬ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও ভর্তি রয়েছেন। হামে আক্রান্তদের সবাইকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চাপ বাড়ছে।
এদিকে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসা অনেক রোগীর স্বজনরা বলছেন, তাদের বাচ্চাকে হামের টিকা দেয়ার পরও হঠাৎ দেখা দিচ্ছে হামের লক্ষণ।
শহরের মুড়লি মোড়ের বাসিন্দা রিমা খাতুন জানান, ২৬ মাস বয়সি নুর মোহাম্মদকে নিয়ে গত তিনদিন ধরে ভর্তি রয়েছেন হামসপাতালে। তার দাবি, সব কয়টি টিকাই তার সন্তানকে দেয়া হয়েছে। তবুও হামে আক্রান্ত হয়েছে।
এ ওয়ার্ডের সিনিয়ার স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার জানান, একই ওয়ার্ডে পক্স, হাম, বিড়ালে কামড়ানো, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগী থাকছে। এক সাথেই তাদের চিকিৎিসা দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এই ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৫টি বেড, তার বিপরীতে এখন ভর্তি রয়েছে ৩০ জন রোগী। এতে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে হাসপাতালের একাধিক দ্বায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হামের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে টিকার চাহিদা। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যে চাহিদা পাঠানো হচ্ছে, তার তুলোনায় টিকা মিলছে কম। এতে করে সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের টিকা ইনচার্জ নুরুল হক বলেন, চাহিদা অনুযায়ী টিকা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।
এদিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, টিকা সরবরাহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, সরকারিভাবে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরবরাহ পৌঁছালেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ এ সংকট কাটবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবাধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে। আমরা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছি এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি। তবে রোগীর চাপ ও টিকার ঘাটতি পরিস্থিতির মোকাবেলা না করা গেলে সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হামের মতো সংক্রামক রোগে সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিতে পারে। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতিও পরিস্থিতি অবনতির আরেকটি কারণ বলে মনে করছেন তারা।
