বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরে পহেলা বৈশাখের আনন্দশোভাযাত্রায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছেন সাংস্কৃতিক নেতা-কর্মীরা। তারা বলেছেন, প্রশাসনের সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত কাউকে না জানিয়ে পরিবর্তন করা বর্ষবরণের শোভাযাত্রার সূতীকাঁগার যশোরে এবার তার ঐতিহ্যে ছেদ পড়েছে। যা সাংস্কৃতিক কর্মীদের মর্মাহত করেছে।

বিবর্তন যশোরের সভাপতি নওরোজ আলম চপল জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রার রুট নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার উল্টোটা দেখা গেছে শোভাযাত্রা বেরোনোর সময়। সিদ্ধান্ত ছিল টাউন হল মাঠের পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে শোভাযাত্রা বের হবে। সে অনুযায়ী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় পূর্ব কোণে ইনস্টিটিউটের গেট দিয়ে বের হবে। এ সময় সকলে দিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিতে নিতেই প্রশাসনের কর্তারা শোভাযাত্রা নিয়ে বেরিয়ে যান। আকস্মিক এ ঘোষণায় অগোছালো হয়ে পড়ে টাউন হল মাঠের পরিবেশ। গত দুই মাস ধরে যে সংগঠনগুলো শোভাযাত্রার শোভা বৃদ্ধিতে ছোট-বড় যে সামগ্রিগুলো তৈরি করে সমবেত হয়েছিলেন ঘটনার আকস্মিকতায় তাতে ছন্দপতন ঘটে।

চারুপীঠ যশোরের সাধারণ সম্পাদক কাজী মামুনুর রশীদ জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাপেটসহ টাউন হল মাঠে গিয়ে তারা দেখতে পান, নির্ধারিত গেট বন্ধ রয়েছে। ফলে তারা মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি। এর মধ্যে হঠাৎ কেন অনির্ধারিত দিক দিয়ে শোভাযাত্রা বেরিয়ে গেল তা বোধগম্য নয়।

তিনি জানান, শুধু চারুপীঠই নয়, একই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে অধিকাংশ সাংস্কৃতিক সংগঠনকে। এমন ঘটনা আগে ঘটতে দেখা যায়নি, যোগ করেন মামুন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিল্পকলা একাডেমি যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু অনুযোগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর শোভাযাত্রা বের হয় টাউন হল মাঠের পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে। কেননা গেটটি প্রশস্ত। শোভাযাত্রা শোভবর্ধনের জন্য যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বরাবরই বৃহৎ পাপেট, যেমন-পুতুল, মোরগ, ভুতুম পেচাসহ বাংলার ঐতিহ্যের নানান স্মারক। এগুলো মাঠে আনা ও বেরোনোর জন্য এই গেটটিই ব্যবহারের উপযোগী।

কিন্তু এ বছর কেন যে গেটটি বন্ধ রাখা হল তা জানার আগেই হঠাৎ ঘোষণা দিয়ে অন্য পথ দিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। এতে করে অনেক সংগঠন উপস্থিত থেকেও মূল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেনি। আকস্মিক সৃষ্ট সমন্বয়হীনতার কারণে এটা হয়েছে। অথচ প্রশাসন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাথে যে বৈঠক করেছিল শোভাযাত্রা নিয়ে সেখানে সিদ্ধান্ত ছিল পশ্চিম দিকে ওই গেট দিয়ে বেরোনোর।

তিনি আরও বলেন, এবারের শোভাযাত্রা খুবই খারাপ হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে ছেদ ফেলেছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এ বছর শোভাযাত্রা সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
সমন্বয়হীনতার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই। তবে বিষয়টি জানতে অনুষ্ঠান উপ-কমিটির সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।

অন্যদিকে অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা যশোর শিশু একাডেমির কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস বলেন, তাকে যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তিনি সেভাবেই মাইকে ঘোষণা দিয়েছেন।

Share.
Exit mobile version