বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের চৌগাছায় বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের পাশের একটি খাল থেকে আতিয়ার রহমান (৫৫) নামে এক নৈশপ্রহরীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে খালের কচুরিপানার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত আতিয়ার রহমান যশোর সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের পাহারাদার এবং একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই রাশেদ জানান, শনিবার (২০ জুন) রাতে আতিয়ার রহমান বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের পাশের একটি খালে কচুরিপানার নিচে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নিহত আতিয়ার বিএনপির কর্মী ছিলেন। চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম জানান, নিহত আতিয়ার বিএনপির কর্মী ছিলেন, এবং তার বাবাও চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।
তিনি জানান, বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়কেন্দ্রীক তাদের সাথে কিছু লোকের বিরোধ ছিলো। তারা আগেও তাকেসহ তার পরিবারের লোকজনকে আহত করেছিলো। সে বিষয়ে মামলাও হয়েছিলো।
তিনি বলেন, যে বা যারাই এই নিকৃষ্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকুক তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।
চৌগাছা থানা পুলিশের ওসি মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আতিয়ার রহমান শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। নৈশপ্রহরীর কাজের পাশাপাশি বাঁওড়ে মোটর বসিয়ে সেচের পানি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার সাথে কারও কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, দায়িত্ব পালনকালে বাঁওড়ের মাছ চোরদের বাধা দেয়ায় তারা আতিয়ারকে খুন করতে পারে।
ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
