বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য মহাবতার পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা এবং গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ধ্বংসের হুমকির প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি বলেন, “এ দেশে কোনো ধর্মকে অবমাননা করা হবে না। সবাই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। কোনো ধর্মকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি একটি চক্র মাঝেমধ্যে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক মানুষের মধ্যে বিভেদের বিজ বপণের চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা যদি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লাল-সবুজের পতাকার নিচে বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কেউ ধর্ম বা বর্ণের বিভেদের বেড়াজালে আমাদের আবদ্ধ করতে পারবে না।”
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং কোনো ধর্মের উপাস্য বা প্রতীকের অবমাননা সমাজে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য দেশের শান্তি ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার আচার্য, সহ-সভাপতি শ্যামল দাস, প্রশান্ত দেবনাথ ও দুলাল সমাদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ রাহা ও রতন আচার্য, তথ্য সম্পাদক শ্রাবণী সুর, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক শান্তিকামী নাগরিক মানববন্ধনে অংশ নেন।
