বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, রিয়েলএস্টেট ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় আটক তার জামাতা বাসেদ আলী পরশ এবং একই এলাকার আসহাবুল ইসলাম সাগরকে দুই দিনের পুলিশি রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।
বুধবার যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আলমগীর হোসেন খুন হয়েছিলেন গত ৩ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় শংকরপুর ইসহক সড়কে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে চলন্ত অবস্থায় আলমগীরকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
ওই এলাকার ভিডিও ফুটেজে এমনই হত্যার দৃশ্য দেখা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পরশ ও সাগরের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করেন বাদী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহতের মেয়ের সাথে পরশের বিয়ে দেয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে পরশ ও তার মেয়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় সেই সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগে। বাদী উল্লেখ করেছেন, রিয়েলএস্টেট ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের গাড়ি, বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তির ওপর জামাতা পরশের প্রথম থেকেই লোভ ছিলো।
তিনি বিভিন্ন সময়ে যৌতুকেরও দাবি করেন। এসব নিয়ে নিহত আলমগীর ও তার পরিবারের সাথে পরশের বিরোধ ছিল। এছাড়া, নিহত আলমগীরের সাথে জামাতা পরশের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধও ছিলো।
এসব কারণে পরশ আলমগীর হোসেনকে নানাভাবে হুমকিও দিতেন বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, অপর আসামি আসহাবুল ইসলাম সাগরের সাথে নিহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে উল্লেখ করে বাদী এজাহারে বলেছেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সাগর হামলা চালান জাহাঙ্গীরের বাড়িতে।
সে সময় আলমগীর বাধ সাধলে সাগর তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বাদীর অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক দাবি, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে জামাতা পরশ এবং প্রতিবেশি সাগর এক হয়ে খুনি ভাড়া করে তার স্বামী আলমগীর হোসেনকে খুন করিয়েছেন।

