রাজগঞ্জ সংবাদদাতা
মণিরামপুর সীমান্তবর্তী যশোর সদরের সিরাজসিঙ্গা গ্রামের কৃষক গোলাপ রঙিন ফুলকপির চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। হলুদ ফুলকপি,প্রথমবার পরীক্ষামূলক এই শীতকালীন সবজি চাষ করে পেয়েছেন সফলতা। হলুদ ফুলকপি নিয়ে এরইমধ্যে অন্য কৃষকদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
সাদা ফুলকপির চেয়ে পুষ্টিগুণ বেশি, দেখতেও সুন্দর, শুধু জৈবসার ব্যবহার করে এই ফুলকপি চাষ করা হয়েছে। বিদেশে এ-জাতের ফুলকপি সালাদ হিসেবে খাওয়া হলেও অন্য ফুলকপির চাষ পদ্ধতিতে চাষ করা হয় এ জাতটিরও। খরচ ও সময় একই। পাশাপাশি শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফুলকপি চাষ করা যায়। এদিকে দিনে দিনে স্থানীয় হাটবাজার এর চাহিদাও বাড়ছে।
গোলাপ মোল্লার নিজ বাড়ির পাশে ৫০শতক জমিতে প্রতি বছর নানা ধরনের সবজি চাষ করেন। এবার সেই জমির অর্ধেকাংশে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন শুধু জৈবসার প্রয়োগে। আর প্রথম বছরেই তার সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও এই সবজিটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন।
এ ছাড়া ফুলকপির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেকেই আসছেন তার বাড়িতে। কেউ কেউ আবার ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষক গোলাপ মোল্লা বলেন, নতুন জাতের হলুদ ফুলকপির চারা রোপণের ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে জমিতে পূর্ণাঙ্গভাবে ফসল পেয়েছি।
এই ফুলকপি বাজারে নেয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যায়, দামও ভালো। প্রতিকেজি ফুলকপি ৪০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোন প্রকার রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈবসার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে চারাসহ সবমিলে তার খরচ হয়েছে ৫০হাজার টাকা।
গোলাপ মোল্লা আরও বলেন, প্রথমে হলুদ ফুলকপি চাষ করতে অনীহা করলেও পরে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এই চাষ করি। যাতে তার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মত লাভ হবে। ফুলকপি কিনতে আসা ক্রেতা কামরুল ইসলাম বলেন, রঙিন ফুলকপির ছবি দেখি। পরে খোঁজ নিয়ে কিনতে আসি। প্রতিকেজি ৪০টাকা দরে কিনেছি।
ফুলকপিটি দেখতে খুবসুন্দর, খেতেও খুবই মজা হবে আশা করছি। যশোর সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিয়া পারভিন বলেন, বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায়।
আমরা আশা করছি আগামীতে এ-অঞ্চলে রঙিন ফুলকপির চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ হবে। আমরা কৃষককে ফুলকপি চাষে সবধরনের পরামর্শের পাশাপাশি রঙিন ফুল কপি চাষে সার ও বিজ সরবরাহে দেয়া হয়েছে।

