কাজী নূর
এ যেন উৎসবের আমেজ। ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে আছে যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি এলাকা। রাত পোহালেই যশোর ইনস্টিটিউট পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন- ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল থেকে ২০ জন করে ৪০ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নুরুন্নবী (৪১) ও মাহবুবুর রহমান (৪২) নামে দুইজন নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর যশোর ইনস্টিটিউটের এ নির্বাচনে ৩ হাজার ২৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

যশোর ইনস্টিটিউটের ত্রিবার্ষিক এ নির্বাচনে ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’ মনোনীত প্যানেল থেকে (ব্যালট নং ১ থেকে ২০) নির্বাচন করছেন এ. জেড. এম. সালেক (স্বপন) ও কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম।

এই প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, সৈয়দ শাহাজাহান আলী খোকন, শাহনেওয়াজ আনোয়ার, কবি অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন, অধ্যাপক ইবাদত আলী, আলমগীর হোসেন, চঞ্চল কুমার সরকার, জিল্লুর রহমান, হাচিনুর রহমান, অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, আক্তারুজ্জামান, প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলী, শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাবু, এস এম মুস্তাফিজুর রহমান কবীর, সানোয়ার আলম খান দুলু, এমরান সাদিক, অ্যাড. আবুল কায়েস, রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল ও অজয় দত্ত।

‘আমাদের অঙ্গীকার সংষ্কার ও উন্নয়ন, বাস্তবায়ন করতে চাই যশোরবাসীর সমর্থন’ স্লোগান নিয়ে ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’ মনোনীত প্যানেলের প্রধান এ. জেড. এম. সালেক (স্বপন) বুধবার বিকেলে দৈনিক ‘বাংলার ভোর’কে বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে সকল ভোটারের দ্বারে দ্বারে আমরা পৌঁছেছি। সম্মানিত ভোটাররা ১ থেকে ২০ এর পক্ষে রায় দেবে বলে আমরা আশাবাদী।

এ. জেড. এম. সালেক (স্বপন) আরো বলেন, আমার প্যানেল নির্বাচিত হলে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মধ্যে ভোটার এবং যশোরবাসীর কাছে দায়বদ্ধ থাকবো। এছাড়া ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিকে সংস্কার করে নতুন বইয়ের ব্যবস্থা করা, পুকুরটা সাজিয়ে নান্দনিক করা, বি সরকার মেমোরিয়াল হলকে আধুনিকায়ন অথবা বড় থিয়েটার স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে মাঠের উত্তর দিকে জেলা পরিষদের পাচিলের ওপাশ থেকে মাঠের জায়গা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’র ডেপুটি প্যানেল লিডার কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম ‘বাংলার ভোর’কে বলেন, অতীতে একাধিকবার যশোর ইনস্টিটিউটের নানা পদে থেকে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য সংস্কৃতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি। আমার সম্পর্কে ভোটারদের কাছে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমি আশাবাদী ভোটারদের দোয়া এবং ভালোবাসা নিয়ে গোটা প্যানেলসহ বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ মনোনীত প্যানেল থেকে (ব্যালট নং ২১ থেকে ৪০) নির্বাচন করছেন আনিসুজ্জামান পিন্টু ও কবি তরিকুল ইসলাম। এই প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন আবুল হাশিম রেজা, মঞ্জুর কাদের মঞ্জু, ফেরদৌস হোসেন আলমগীর, নাসির উদ্দীন মিঠু, মমতাজ খাতুন, নাছিম উদ্দিন খান, বদরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান রুবেল, সালমান হোসেন, শাহাবুদ্দীন, জাকির হোসেন, জুবায়ের হোসেন, শেখ সাদী হ্যাভেন, আবুল কালাম আজাদ (মামুন আজাদ), এস এম তোজাম্মেল হক, শারমিন সুলতানা (সাথী), নূর -ই- আলী নূর- মামুন ও হাশেম আলী।

‘নতুন মুখ, নতুন ঐক্য, নতুন আলো’ স্লোগান নিয়ে ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ মনোনীত প্যানেল প্রধান আনিসুজ্জামান পিন্টু দৈনিক ‘বাংলার ভোর’কে বলেন, আমরা বিজয়ী হতে পারলে ঐতিহ্যবাহী টাউন ক্লাবকে তার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে সচেষ্ট থাকবো। এছাড়া নিয়মিত নাটকের কর্মশাল বা নাট্যেৎসবের মাধ্যমে শিল্পীদের মানোন্নয়নসহ সম্মানীর ব্যবস্থা করা। নাট্যকলা সংসদে সরকারি সহায়তায় একটি মাল্টি প্রজেক্ট স্থাপনের ভাবনা আমাদের মাথায় আছে। আমাদের মাননীয় মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চান যশোরের উন্নয়ন। আমরা আশাবাদী তিনি আমাদের উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেবেন এবং এ কাজটিকে সহজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’র ডেপুটি প্যানেল লিডার তরিকুল ইসলাম দৈনিক ‘বাংলার ভোর’কে বলেন, পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ইনস্টিটিউটে নির্বাচন করছি। বিপুল সংখ্যক সম্মানিত ভোটাররা ইনস্টিটিউটে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চান। আমরা আশাবাদী এ নির্বাচনে আমাদের প্যানেল সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হবে।

এদিকে, দিনব্যাপি বিভিন্ন ভোটারের সাথে কথা বলে এবারের নির্বাচনে দু’ পনেলের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মত পাওয়া গেছে। শরীফ মো. আমিন নামে এক ভোর দৈনিক ‘বাংলার ভোর’কে বলেন, দলবেঁধে একটিমাত্র প্যানেল আমার বাড়িতে ভোট প্রার্থনা করতে এসেছিল। এর বাইরে অন্য কোন প্যানেলের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি চাই যশোর ইনস্টিটিউটের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এ নির্বাচনে পরীক্ষিতরাই বিজয়ী হবে এটা আমার বিশ্বাস।

ভোটার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার মনে হয় কোন প্যানেল এককভাবে বিজয়ী হতে পারবে না। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দুটি প্যানেলের যোগ্যরা নেতৃত্বে আসবে বলে বিশ্বাস করি।

আরেক ভোটার হারুন অর রশীদ বলেন, সম্মানিত ভোটাররা সচেতন। নিশ্চয়ই তারা ব্যালটের মাধ্যমে যোগ্যদের বেছে নেবেন।

ভোটার রওশন আরা বলেন, আমার ধারনা ১ থেকে ২০ প্যানেল বিজয়ী হবে।

সিনিয়র ভোটার এস এম নুরুজ্জামান বকুল বলেন, সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি মনোনীত প্যানেলে সব পরিচিত এবং অভিজ্ঞ মুখ। আশা করি এ প্যানেল বিজয়ী হবে।

Share.
Exit mobile version