বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যশোরে বেড়েছে শিশুদের ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। গত কয়েকদিন ধরে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক অভিভাবককে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত ২৪টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৮৫ জন শিশু রোগী। অনেক শিশুকে একটি শয্যায় দুইজন করে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ মেঝেতে বা করিডোরে অস্থায়ীভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে বাচ্চা চিকিৎসাধীন চুড়ামনকাঠি এলাকার ফরিদা পারভীন বলেন, আমার বাচ্চা প্রথমে ঠাণ্ডা জ্বরে আক্রান্ত হয়।
পরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করি। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বলেন নিউমোনিয়া হয়েছে। ৯ দিন ধরে ভর্তি আছি।
এখন অনেকটা সুস্থ। চিকিৎসা ভালো হলেও ওয়ার্ডে তেলাপোকার উপদ্রব রয়েছে। এটা রোগীদের জন্য অস্বস্তিকর।
সতিঘাটা এলাকার সাজিদুস সালাম বলেন, আমার ছেলের ৫ থেকে ৭ দিন ধরে জ্বর ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ ঠাণ্ডা। কিন্তু জ্বর না কমায় আজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখানে এসে দেখি অনেক রোগীর ভিড়।
শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স সালমা খাতুন বলেন, চলতি সপ্তাহে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী আসছে। বেশির ভাগ শিশু ঠাণ্ডা, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। আমরা সাধ্যমতো সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কাজের চাপও বেড়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, মৌসুমি আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ঠাণ্ডা, ভাইরাল জ্বর ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগেও বিপুল সংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও গুরুতর অবস্থায় থাকা শিশুদের ভর্তি রাখতে হচ্ছে।
এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর কারণে ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের এ সময় বাড়তি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখা, পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকলে শিশু ওয়ার্ডে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
