কাজী নূর
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও রোগী ভাগানোর অভিযোগ রয়েছে। এবার সামনে এসেছে রোগী বেচাকেনার একটি শক্তিশালী সিণ্ডিকেটের তথ্য। হাসপাতালের কিছু সরকারি স্টাফ ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই সিণ্ডিকেট রোগীদের বিভিন্ন কৌশলে হাসপাতাল থেকে নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠিয়ে কমিশন নিচ্ছেন। চলতি রমজানে এই কমিশন বাণিজ্যে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এ সময় রোগী ধরতে কোন কোন ক্লিনিক ৫০% পর্যন্ত কমিশন দিচ্ছেন। যা চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে হাসপাতাল থেকে বের করে সামনের বিভিন্ন নামসর্বস্ব ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠান। প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কমিশন নেয়া হয় বলে জানা গেছে। রমজান মাস উপলক্ষে এ কমিশন অফার চাঁদ রাত পর্যন্ত চালু থাকবে বলেও সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্টরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত হাসপাতালের পশ্চিম গেট দিয়ে রোগী সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম বেশি চলে। সম্প্রতি হাসপাতালের চতুর্থ তলার ১২ নম্বর পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে এমন একটি সিণ্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন হাসপাতালের সরকারি কর্মচারী খায়রুল ইসলাম। তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ১ নম্বর বেডের রোগী আব্দুর রশীদকে (৬৫) প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে সামনের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমদিকে খায়রুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। পরে একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড বয়। বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত আছি। হাসপাতাল থেকে প্রায় ৮ হাজার টাকা বেতন পাই। এ বেতনে সংসার চলে না, তাই মাঝে মধ্যে কমিশনের ভিত্তিতে রোগী পাঠাতে হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, আমি একা নই। হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক ফারজানা, জরুরি বিভাগের রাকিব ও হালিম, বহির্বিভাগের আহাদ, গাইনি বিভাগের শাহনাজ ও নার্গিসসহ আরও অনেকে এই কমিশনভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
তবে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে খায়রুল ইসলাম বলেন, সামনে ঈদ, তাই ক্লিনিকগুলোর এমন লোভনীয় অফার হাতছাড়া করতে পারিনি।
এ বিষয়ে রোগী আব্দুর রশীদ ও তার স্ত্রী বলেন, এ হাসপাতালে কম খরচে পরীক্ষা নীরিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও ওয়ার্ডের খায়রুল নামে এক ব্যক্তি তাদের হুইল চেয়ারে করে সামনের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ করান। প্রথমে বুঝতে পারিনি আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। যখন বুঝেছি বিষয়টি অনেকদূর গড়িয়ে গেছে।
এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আ ন ম বজলুর রশীদ টুলু অভিযোগ পেয়েছি জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় খায়রুল বর্তমানে সাসপেন্ড রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি হাসপাতালে রোগী বেচাকেনার মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

