কাজী নূর
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। এমন অভিযোগ জানিয়ে যশোর শহরের ডিআইজি রোডের বাসিন্দা আনোয়ার জাহিদ বলেন, ৭৫০ টাকা কেজি মাংসের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রির অশুভ পাঁয়তারা চলছে। এমনকি মাংসের সাথে অতিরিক্ত হাড়, চর্বি বা বাদ দেয়া ছাট নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের ইচ্ছামত মাংস না নিলে খারাপ ব্যবহার পর্যন্ত শুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
আনোয়ার জাহিদের অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে শুক্রবার সকালে শহরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার বাবুঘাট কাঠেরপুল এলাকায় গরুর মাংসের একাধিক দোকানে সরেজমিনে গেলে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিক্রেতা জানান, ‘হাটে গরুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়তি দামে আমাদেরকে গরু কিনতে হচ্ছে। তবুও আমরা পূর্বের দামে ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছি। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতাকে মাংসের সাথে আনুপাতিক হারে হাড় এবং চর্বি নিতে হবে। কিন্তু অনেক ক্রেতা হাড় চর্বি না নিয়ে সলিড মাংস নিতে চান। তখনই ঘটে বিপত্তি।’
এছাড়া বাবুঘাট কাঠেরপুল এলাকায় বেশ কিছু দোকানে গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে সাব্বির বিফ হাউজের ম্যানেজার টিটো শেখ বাংলার ভোরকে জানান, আপাতত গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির আশংকা নেই। তবে হাট থেকে আমাদের বাড়তি দামে গরু কিনতে হচ্ছে।
তবে শহরের বেজপাড়া তালতলা মোড় এলাকার মাংস ব্যবসায়ীরা জানান দুই-এক দিনের মধ্যেই মাংসের দাম কমপক্ষে ২০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে সোনালী জাতের মুরগি ২৯০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, লেয়ার ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। তানবীর ব্রয়লার হাউজের মালিক ইমরান হোসেন জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় মুরগির সরবরাহ কম। শীত কমেছে বিধায় অনেক খামারি বাচ্চা তুলেছে। সেক্ষেত্রে বাজার স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
ক্রেতা শূন্যমাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে খুব অল্প সংখ্যক বিক্রেতা দোকান মেলে বসেছেন। এদিন বাজারে মাছের দামও ছিল চড়া।
বিক্রেতা রতন বিশ্বাস জানান, আজ বাজারে মাছের সরবরাহ কম। সরবরাহ কম থাকার সঙ্গে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতিও কম। হয়ত ভোটের পরদিন তাই এমন পরিস্থিতি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে দুই থেকে আড়াই কেজি সাইজের রুই কেজি প্রতি ৪০০ টাকা, আড়াই কেজি সাইজের কাতলা ৩৫০ টাকা, ভেটকি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাঁকলে ৫০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফলই ৪০০ টাকা, বেলে ৬০০ টাকা, বাটা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পুঁটি ৩০০ টাকা, জিয়েল ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা, চাষের কৈ ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা, মায়া ৩০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১২০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, শোল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, নাইলোটিকা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ছোট সাইজের ইলিশ মাছ ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এদিন মানভেদে ফুলকপি কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ব্রকোলি ৪০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ টাকা, সবুজ শাক ২০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, হলুদ রঙের ফুলকপি ৫০ টাকা, মানকচু ৫০ টাকা, কুমড়ো ৪০ টাকা, পুঁইশাকের মিচুরি ৬০ টাকা, শষা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, মেটে আলু ৬০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আকারভেদে লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও পাতাকপি ২০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা ফারুক হোসেন জানান, আজ বাজারে সবজির সরবরাহ কম হলেও দাম কম। কিন্তু বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা কেজি, বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০ টাকা লিটার, সরিষার তেল ২৩০ টাকা কেজি, আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মসুরি ডাল ৯০ থেকে ১৬০ টাকা, মুগ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, বুট ৫৫ টাকা, সাদা চিনি ১০০ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা, আলু ১৭ থেকে ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ১৫০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাল ডিম ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, সাদা ডিম ৩২ টাকা, হাঁস ৬০ টাকা ও কোয়েল ১১ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে।
চালের বাজার চাউল চান্নী ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে বাসমতী চাল কেজি প্রতি ৮০ থেকে ৮৪ টাকা, মিনিকেট ৬৪ থেকে ৭৬ টাকা, স্বর্ণা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, কাজললতা ৫৬ থেকে ৬৫ টাকা, আটাশ ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা বিক্রি হয়েছে।
নিউ মা কালী ভান্ডারের পরিচালক অভিজিৎ সাহা বলেন, দাম বৃদ্ধি কোন আশংকা নেই। চালের দাম কম থাকলেও তেমন বিক্রি নেই বলা চলে।

