বাংলার ভোর প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে যশোর শহরের রেডিমেড পোশাকের বাজারে জমে উঠেছে কেনাকাটা। বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড ও ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানে সকাল থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত এবং ইফতারের পরও দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতারা দোকান ঘুরে ঘুরে নিজের ও প্রিয়জনদের জন্য পছন্দের পোশাক কিনছেন।
বুধবার শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে দোকানে থরে থরে সাজানো রঙ বেরঙের নতুন পোশাক। নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য আলাদা আলাদা কালেকশন সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
শহরের কালেক্টরেট মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আবু হুরাইয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। একটু মানসম্মত পোশাক কিনতে গেলে হাজার টাকার উপরে যেতে হচ্ছে। পরিবারের সবার জন্য এই সময় পোশাক কিনতে হয়। রোজার মধ্যে বাড়তি খরচও থাকে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা টানাপোড়েন যাচ্ছে।
জেন্টস ক্লথের বিক্রেতা জাহিদ হাসান হৃদয় জানান, এবারের ঈদে শার্ট ও টি-শার্টের সমান চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে শার্ট ও টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে। রাতের বেলা বেশি ক্রেতা আসে। এবার কেনাবেচা নিয়ে আমরা আশাবাদী।
সেভেন জি ক্লথের দীপংকর দাস বলেন, ঈদে পাঞ্জাবির চাহিদা তুলনামূলক বেশি। সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা থেকে পাঞ্জাবির দাম শুরু। এখনও পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। ২০ রোজার পর বাজার আরও জমবে বলে আশা করছি।
তবে বাজারে ভিড় বাড়ার পাশাপাশি কিছু ক্রেতা দোকানিদের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মহিলা ক্রেতা হালিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, অনেক দোকানদারের ব্যবহার ভালো নয়। দোকানের সামনে দিয়ে গেলে পোশাক দেখার জন্য ডাকাডাকি করে। পোশাক পছন্দ না হলে বা দাম বেশি মনে হলে বিরূপ আচরণ করে।
এদিকে শিশু ও নারীদের রেডিমেড পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন একাধিক ক্রেতা। তবুও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করছেন সবাই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে ঈদের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি আরও বাড়বে। আর ক্রেতারা আশা করছেন, দাম কিছুটা সহনীয় হলে এবং দোকানিদের আচরণে সৌজন্য বাড়লে ঈদবাজার হবে আরও স্বস্তিদায়ক।

