বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছায় বাঁওড়ের গার্ড আতিয়ার রহমান হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসী। বুধবার বিকেলে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তারা চৌগাছা থানার সামনে অবস্থান নেন। এতে প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নিহতের পিতা ছবেদ আলী বলেন, তার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে ওসমান (১৮) নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নিলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ সময় গ্রামবাসীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভে নিহতের পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় দেড় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তবে এজাহারে তার নাম না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো অপরাধী যাতে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
এদিকে আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলীকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছেন র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরের ইব্রাহিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী চৌগাছা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে যান। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল ঢাকার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চৌগাছা থানায় নিহতের ছোট ভাই মো. রাশেদ আলী (৪১) বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে দশ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উল্লেখ করে র্যাব কমান্ডার জানান, নিহত আতিয়ার রহমান বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আসামিদের সাথে আতিয়ারের পরিবারের পূর্ববিরোধ ছিল। এর আগে আসামিরা আতিয়ারের বাবা ছবেদ আলীকে হত্যার উদ্দেশে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে, যা নিয়ে চৌগাছা থানা ও আদালতে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলা দুটি তুলে নেয়ার জন্য আসামিরা আতিয়ার ও তার ছোট ভাই রাশেদ আলীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই জেরে গত ২০ জুন রাতে আতিয়ার রহমান প্রতিদিনের মতো বাঁওড় পাহারা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু পরদিন তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ২১ জুন দুপুরে বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের ডাইনের বিল ক্যানালের কচুরিপানার নিচ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
