বাংলার ভোর প্রতিবেদক
একাত্তরের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত শিশু চিত্রাঙ্কন ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নার্গিস বেগম বলেছেন, একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এজন্য বর্তমান প্রজন্মকে এ ধরনের আয়োজনে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত হতে হবে, যাতে তারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে জানতে পারে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি।
শনিবার সকালে যশোর শহরের বেজপাড়ায় শহীদ সুধীর কুমার ঘোষের কাঠগোলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ। এ যুদ্ধে সমাজের সব পেশা ও ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। যারা শহীদ হয়েছেন, তারাও ছিলেন বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষ—যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রমাণ বহন করে।
তিনি বলেন, শহীদ সুধীর কুমার ঘোষ ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে সন্তানসহ নির্মমভাবে হত্যা করে। তাঁর এই আত্মত্যাগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে আছে।
দেবব্রত ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক বাংলার ভোরের উপদেষ্টা সম্পাদক হারুন অর রশিদ, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মণিরুজ্জামান মাসুম, যশোর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, এবং শহীদ ওমর ফারুকের ভাই অ্যাডভোকেট শাহিনুর রহমান আসাদ।
অনুষ্ঠান শেষে আগের দিন অনুষ্ঠিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি নার্গিস বেগম।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

