বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনের অনুসারীরা।
তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো দাবী করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু জানিয়েছেন নিজের সমার্থিত লোক গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন।
সোমবার বেলা ১১টায় শার্শা উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর নেতৃত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে উল্লেখ করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরাসহ, শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগসাজশে টেণ্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেয়া এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে অর্থ উত্তোলন, অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ এবং একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের কাজ দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে এ সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু মুঠোফোনে জানান,গ্রামীণ অবকাঠামো বা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প কাজের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন এ কাজগুলো তার অনুসারী লোকজনকে দিয়ে করাতে হবে।
তখন এসব কাজ পাইয়ে দেয়া আমার কাজ না জানালে তিনি বলেন আমি নাকি কায়বা ইউনিয়নের কাজগুলো উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরের সমর্থক কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মুকুলকে পাইয়ে দিচ্ছি। আমি কথাটি মিথ্যা দাবি করলে নুরুজ্জামান লিটন আমাকে ১০ দিনের ভিতর দেখে নেয়ার হুমকি দেন এবং এ উপজেলায় আমি যাতে না চাকরি করতে পারি তার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।
যে কথপোকথনের অডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাই হয়তো তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে তার অনুসারী লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন। আমার কাজ হলো কাজ বুঝে নেয়া। আর কাজ দেয়ার ক্ষতা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ ১১টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
