বনোপোল সংবাদদাতা
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী পুটখালী ইউনিয়নে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বারোপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ৫ নম্বর পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক নূরুজ্জামান লিটন।

দুপুর গড়াতেই বেনাপোল ও পুটখালীর আশপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল সহকারে সভাস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। “নূরুজ্জামান লিটনের সালাম নিন, ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিন”—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুজ্জামান লিটন উপস্থিত সকলকে সালাম ও ধন্যবাদ জানিয়ে জনসাধারণের খোঁজখবর নেন। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হয় এবং দল ক্ষমতার বাইরে থাকলে সাধারণ মানুষ অবহেলিত ও অসহায় হয়ে পড়ে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচিত হলে শার্শা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এই অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। বারোপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল শিক্ষার আওতায় আনার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশ করে নূরুজ্জামান লিটন তার প্রয়াত মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথা উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি তার মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব খাইরুজ্জামান মধু, সভাপতি আবুল হাসান জহির, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মহসিন কবির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তাজউদ্দীন ও কুদ্দুস আলী বিশ্বাসসহ উপজেলা, পৌর, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

Share.
Exit mobile version