বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর এবিএম আমিনুল ইসলামের পরিবারও গত ১৯ মার্চ সেই আনন্দ নিয়ে ঢাকা থেকে পৈত্রিক ভিটা যশোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
গাড়িতে ছিলেন স্ত্রী নাসিরা আক্তার এবং ছোট ছেলে ওয়াকিউল কবির ইবনে আমিন। কিন্তু কে জানত, ঢাকা-নড়াইল মহাসড়কের সীমাখালি বাজারের সেই তিন রাস্তার মোড়টিই তাদের জীবনের সব আনন্দ কেড়ে নিতে ওঁৎ পেতে আছে।
ঈদে কত স্বপ্ন ছিলো পছন্দের নতুন পোশাক পরে প্রিয় জনের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। কালনা-খুলনা সড়কের একটি বেপরোয়া গতির বাস যখন তাদের প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেয়। তখন মুহূর্তেই উল্টে যায় একটি সাজানো গোছানো পরিবারের ভাগ্য।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও নিয়তি যেন অন্যকিছু লিখে রেখেছিল। যশোর সিএমএইচের আইসিইউতে যমে-মানুষে টানা দুদিন লড়াই করার পর, ঠিক ঈদের দিন দুপুরে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন নাসিরা আক্তার।
নাসিরা আক্তার কেবল একজন স্ত্রী বা মা ছিলেন না। তিনি ছিলেন ‘দৈনিক বাংলার ভোর’ পরিবারের এক পরম সুহৃদ এবং শুভাকাক্সক্ষী। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নড়াইল ও যশোর এলাকায়। প্রিয়তমা স্ত্রীর নিথর দেহ নিয়ে যখন শনিবার যশোর সেনানিবাসে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হলো, তখন উপস্থিত বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের চোখের পানি বাঁধ মানেনি।
পরদিন ঢাকার বনানী কবরস্থানে যখন তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো। সেখানে জানাজায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে নাসিরা আক্তার কতটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ ছিলেন।
একদিকে শোকের মাতম, অন্যদিকে ঢাকা সিএমএইচের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মেজর (অব.) আমিনুল ইসলাম এবং তার উনিশ বছর বয়সী তরুণ ছেলে ওয়াকিউল। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আর সেই মমতাময়ী মুখটি দেখতে পাবেন না এই যন্ত্রণা তাদেরকে হাসপাতালের বিছানায়ও প্রতিমুহূর্তে কুরে কুরে খাচ্ছে। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর এই শূন্যতা কোনো স্বান্ত্বনাতেই হয়তো পূরণ হবার নয়।
একটি বেপরোয়া বাস চালকের খামখেয়ালি আজ একটি পরিবারকে পঙ্গু করে দিল। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নড়াইল সদর থানায় মামলা করেছেন মেজরের ভাই এবিএম শহিদুল ইসলাম। সড়কের এই নিষ্ঠুরতা আর কত প্রাণ কাড়লে আমাদের টনক নড়বে, সেই প্রশ্নই আজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরপারে নাসিরা আক্তার ভালো থাকুন, হাসপাতালের বিছানায় থাকা বাবা-ছেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক এটিই সবার প্রার্থনা আজ।
