শ্যামনগর সংবাদদাতা
শ্যামনগর পদ্মাপুকুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের সহযোগিতায় খুটিকাটা ও চাউল খোলা, পাতাখালি, সোনাখালি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায় চাল খোলা এলাকার অনিল বাবুর প্রায় এক বিঘা জায়গা ভরাট করতে একই এলাকার আব্দুর রহমানের মৎস্য চাষের ঘেরের ভিতর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

ফুটপ্রতি ৬ টাকা চুক্তিতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা আশাশুনীর প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিকলারাইট গ্রামের পেশাদার বালু খেকো সেকেন্দার হোসেন।

একটু সামনে গিয়ে ৪৫ নম্বর খুটিকাটা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায় স্কুল সংলগ্ন শ্মশানঘাট ভরাট করার নামে খুটিকাটা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মৎস্য ঘের থেকে বালু উত্তোলন করছে ফুট প্রতি ৫ টাকা চুক্তিতে আশাশুনী উপজেলার কালিমাখালী এলাকার শামিম হোসেন নামের বালু খেকো।

দীর্ঘদিন ধরে একাধিক স্থানে বালু উত্তোলন করলেও স্থানীয় তহশিলদারের অফিসের পক্ষ থেকে টু শব্দ প্রর্যন্ত করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক বালু উত্তোলনের খবর তহসিলদারকে জানালে সেখানে তহশিলদার প্রতিনিধি হিসেবে আসেন কম্পিউটার অপারেটর পরিচয়দানকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু।

তিনি আসতেই সেকেন্দারের মেশিনে কাজ করা তার ছেলে মুনাইয়িম তাকে বলেন আপনি যান বিকেলে আব্বা আপনার সাথে দেখা করবে। এমন কথায় কিছু ইতস্তত বোধ হয়ে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেন বাবু।

স্থানীয় মফিজুল হোসাইন জানান পদ্মাপুকুর ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে তারা ফুট প্রতি ১ টাকা করে নায়েবকে দিয়ে এ কাজ চালায় অনেকদিন ধরে।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয়দের মাঝে জমি ধসে, আশেপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত, মাছ ও চিংড়ির প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশংকায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে। মাটির নিচ থেকে বালু উত্তোলন করলে বালুর স্তর ফাকা হয়ে গেলে সে অঞ্চলে ভূমিধস বাড়বে।

ফুটপ্রতি মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পদ্মাপুকুর তহশিলদার বলেন, ওখানে কাজ চলছে এ বিষয়ে আমি অবগত নই।” স্থানীয়রা একাধিকবার জানানো হয়েছে বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইন বলেন এ বিষয়ে আমি অবগত না। এমন ঘটনা শুনছি তাকে উপজেলা অফিসে ডেকে স্পষ্ট ব্যাখা চাওয়া হবে।

Share.
Exit mobile version