বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর এবিএম আমিনুল ইসলামের স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ তার ছোট ছেলে মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, পৈত্রিক বাড়ি যশোরে ঈদের ছুটিতে আসার সময় ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-নড়াইল মহাসড়কের নড়াইলের উপকণ্ঠে সীমাখালি বাজার সংলগ্ন তিন রাস্তা মোড়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর এবিএম আমিনুল ইসলাম (৫৯), তার স্ত্রী নাসিরা আক্তার (৫৫) ও তাদের ছোট ছেলে ওয়াকিউল কবির ইবনে আমিন (১৯)। খুলনা-কালনা সড়কের একটি বেপরোয়া গতির বাস (সাতক্ষীরা জ-০০৭১) মেজর আমিনকে বহনকারী প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের একটি খাদে ফেলে দেয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রেফার করেন। পরে ওই দিনই রাত সাড়ে নয়টার দিকে আহতদের যশোর সিএমএইচের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদের দিন দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মারা যান সেনা কর্তার স্ত্রী নাসিরা আক্তার। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, তিন সন্তান, ভাই-বোনসহ, বহু অত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য বন্ধু-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার (২২ মার্চ) বাদ আসর ঢাকা সেনানিবাসের গ্যারিসন মসজিদে মরহুমার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তাসহ মরহুমার ভাই-বোন-আত্মীয়-পরিবার-পরিজনসহ বহু সংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেন। পরে তাকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে শনিবার বাদ আসর যশোর সেনানিবাসের গ্যারিসন মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে যশোর সেনানিবাসের জিওসি, দৈনিক বাংলার ভোর প্রকাশক ও সম্পাদকসহ পরিবারের সদস্য, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহীরা জানাজায় অংশ নেন।
এদিকে, ওই দিনই আহত মেজর (অব.) আমিনুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচে রেফার করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
নাসিরা আক্তারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ভোর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ আবুল কালাম শামছুদ্দীন জ্যোতি। এক শোক বিবৃতি তিনি উল্লেখ করেছেন, মরহুমা নাসিরা আক্তার ছিলেন বাংলার ভোর পরিবারের সবচেয়ে বড় শুভাকাক্সক্ষী ও সুহৃদ। তার মৃত্যুর শূন্যতা কোনদিন বাংলার ভোর পরিবারে পূরণ হবে না। তিনি মহান আল্লাহতায়ালার কাছে মরহুমা নাসিরার আক্তারের জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ মকাম কামনা করেছেন। একই সাথে তার পরিবারকে এই শোক সইবার ক্ষমতা প্রদানের জন্য মহান রবের করুণা প্রার্থনা করেছেন।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার বিষয়ে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার নড়াইল সদর থানায় মামলা করেছেন মেজর (অব.) আমিনের ভাই এবিএম শহিদুল ইসলাম।

