খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা পৌরসভার অনুমতি ও নকশা অনুমোদন ছাড়াই শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পাকা ভবন ও আলিশান মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবনের পিলার, বিম ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের সুলতানপুর বড় বাজার এলাকায় “মসলা ভাণ্ডার” নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল কাশেম দুটি আলিশান মার্কেট নির্মাণের লক্ষ্যে পিলার ও ছাদের রড বাঁধাই শেষে ঢালাই কাজ করছেন।
একইভাবে শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি সাতক্ষীরার কর্মকর্তা মো. সুমন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য কাজ চলমান রেখেছেন।
তবে তার বিরুদ্ধে পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন বা নির্মাণের লিখিত অনুমতি না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সুলতানপুর পিএন হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় ফারুক হোসেন অনুমোদন ছাড়াই বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একইভাবে সুলতানপুর বড় বাজারের সরকারি গোডাউন সংলগ্ন এলাকায় জোহা নামে এক ব্যক্তি পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
শহরের মুনজিতপুর এলাকায় ফরহাদ নামে এক সৌদি প্রবাসী বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, রাজার বাগান এলাকায় রেজাউল মাস্টার ও শিক্ষিকা মিসেস রিতা, টাউন বাজারে হারুন, কাটিয়া টাউন বাজার সংলগ্ন এলাকায় লিপু এবং খুলনা রোড মোড় এলাকায় মহব্বত সহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি নকশা অনুমোদন ছাড়াই ভবন বা মার্কেট নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তদারকির ঘাটতির সুযোগে নিয়ম বহির্ভুতভাবে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নকশা ও অনুমোদনবিহীন এসব ভবন ভবিষ্যতে রানা প্লাজার মতো বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এমন দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির দায়ভার কার ওপর বর্তাবে—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৌরসভা এলাকায় যেকোনো ধরনের পাকা স্থাপনা নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন ও নির্মাণের লিখিত অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, “আমরা নকশা অনুমোদনের জন্য পৌরসভায় কাগজ জমা দিয়েছি। পৌরসভা থেকে মৌখিকভাবে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।” অন্যদিকে অভিযুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি সাতক্ষীরা শাখার কর্মকর্তা মো. সুমন বলেন, “আমি এখনো পৌরসভা থেকে নকশার অনুমোদন বা কোনো লিখিত অনুমতি নেইনি।
তবে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছি।” এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহমেদ বলেন, পৌরসভার অনুমতি এবং নকশা অনুমোদন ছাড়াই যে সমস্ত ভবন ও মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে নোটিশ প্রদান করেছি। এছাড়া আমার উদ্ধতন কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কোন সাড়া না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
