সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০৫ সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে তালা উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় তালা ডাকবাংলো চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, সাবেক সহ-সভাপতি মো. মহব্বত আলী সরদার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মোশারাফ হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু, জাহাঙ্গীর আলম, গাজী সুলতান আহমেদ, মির্জা আতিয়ার রহমান,সাইদুর রহমান সাইদ, মারুফুল ইসলাম মারুফ সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তালা উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রশাসনের সহযোগিতায় ৩০০ থেকে ৫০০ ব্যালটে বাইরে থেকে সিল মেরে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তালা সদর ইউনিয়নের ৪৩নং মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ২টার দিকে ব্যালট পেপার শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্র ত্যাগে বাধ্য করা হয়, যা পূর্ব পরিকল্পিত কারচুপির অংশ বলে দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দুপুরের পর ভোটারদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। এতে অনেক ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে যান। পরে আগে থেকে সিল মারা ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।ভোট গণনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে গণনা শেষ হওয়ার পরও ফলাফল ঘোষণা বিলম্ব করা হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি কেন্দ্র, তালা সদরের বারুইহাটি কেন্দ্র, জেয়ালা নলতা ও আটারই কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করা হয়। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ৩৬নং সবুজ শিক্ষা নিকেতন কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ফলাফল না লিখেই ব্যালট বাক্স উপজেলা সদরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।
একই কেন্দ্রে কয়েকজন ভোটার ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। এছাড়া জামায়াতের পদধারী নেতাদের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অতীতে এ আসনে কখনো ৮০ শতাংশ ভোট পড়ার নজির নেই। কিন্তু এবার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট দেখিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপ্রিয় নেতাকে পরাজিত করা হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত।
এ কারণে সাতক্ষীরা-১ আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।
