বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের এক নারী তার বিদেশে থাকা স্বামী ও দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে তালাকের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি ভিডিও কলে একান্ত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
আদালতে দায়ের করা মামলাটি কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হওয়ার পর পুলিশ স্বামীর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া গ্রামের শাহিন সিদ্দিকীর ছেলে আনিক মোল্লা (১৯) এবং শরিফুল ইসলামের ছেলে রেশান মাহমুদ (২০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২ মার্চ সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে আবু সাঈদের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কন্যা সন্তান জন্মের পর থেকেই সাঈদ পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিদেশে যাওয়ার জন্যও তিনি টাকার চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পরিবার কষ্ট করে দুই লাখ টাকা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি সাঈদ।

গত বছরের ১২ মার্চ আবু সাঈদ বিদেশে চলে যান। বিদেশে অবস্থানকালে ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সেই ভিডিও তিনি তার ভাগ্নে রেশান মাহমুদের কাছে পাঠান। রেশান মাহমুদ ভিডিওটি আনিক মোল্লার কাছে সরবরাহ করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১৪ জুলাই আনিক মোল্লা ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে ওই ভিডিও পাঠিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এতে ওই নারী সামাজিক মান-সম্মান হারানোর ভয়ে চরম আতঙ্কে পড়েন। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বর্তমানে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই কবির হোসেন মোল্লা জানান, মামলার দুই আসামি আনিক মোল্লা ও রেশান মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আবু সাঈদ বিদেশে অবস্থান করায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

Share.
Exit mobile version