বাংলার ভোর প্রতিবেদক
মহান স্বাধীনতা দিবসে যশোরের মণিহারস্থ বিজয়স্তম্ভের বেহাল অবস্থা ঘিরে ক্ষুব্ধ যশোরবাসী। জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে মলিন রঙচটা, বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে হয়েছে মানুষকে। একই সঙ্গে স্তম্ভের একটি অংশ কালো কাপড়ে ঢেকে রাখার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম হয়েছে।

বিজয়স্তম্ভের এ করুণদশা জেলার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর জন্য জেলা প্রশাসনকে দায়ি করেছেন তারা। অপরদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন, সংস্কার করা হবে বলে বিজয়স্তম্ভের এ অবস্থা।

বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা দিবসটির কর্মসূচির সূচনা হয়। দিনের প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু বিজয় স্তম্ভের এ অবস্থা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

এদিকে শুধু রঙহীন মলিন বিজয় স্তম্ভই নয়, স্তম্ভের একটি অংশ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলের একাংশের অভিযোগ, উদ্বোধনী ফলকে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নাম আড়াল করতেই এমন কাজটি করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

যশোরের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুণ-অর-রশিদ বলেন, প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস ঘিরে বিজয় স্তম্ভে আলাদা প্রস্তুতি থাকে। রঙ করা থেকে শুরু করে পুরোটা পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে, যা দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি চোখ বন্ধ করে গেছি, আবার চোখ বন্ধ করে এসেছি। তার মতে, এটি শুধু অবহেলা নয়, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও অসম্মান।

একই ভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুযহারুল ইসলাম মন্টু বলেন, এরকম পরিস্থিতির আশঙ্কায় তাদের একটি অংশ এবার বিজয়স্তম্ভে যাননি। তিনি বলেন, ইতিহাস কখনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। এধরনের কর্মকাণ্ড অনভিপ্রেত।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের জেলার সাধারণ সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর যে চেতনার উদ্ভব হয়েছিল তা ২০২৬-এর মার্চে এসে এমন চিত্র দেখতে হবে এটা প্রত্যাশিত ছিলোনা।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, বিজয় স্তম্ভের সংস্কার কাজের পরিকল্পনা থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখাও সংস্কারের অংশ বলে তিনি দাবি করেন। দ্রুতই পুরো স্থাপনাটি সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।

যশোরবাসীর দাবি, স্বাধীনতার স্মারক হিবেসে বিজয়স্তম্ভ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। দ্রুত সংস্কার করে যথাযথ মর্যাদায় ফিরে আনার প্রত্যাশা যশোরবাসীর।

Share.
Exit mobile version