বাংলার ভোর প্রতিবেদক : 
মণিরামপুর উপজেলার গোপীকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. হারুনার রশিদ (৪৬) নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় তাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার প্রেসক্লাব যশোরের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন হারুনার রশিদের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. এমরান আলী।

তিনি জানান, গত ২০ জুন বিকেলে কেশবপুরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন হারুনার রশিদ। রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ২১ জুন মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১২৩) করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হারুনার রশিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার জুইখালী কামারালী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালালেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর মামলার তদন্তে র‌্যাব-৬ যুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে এমরান আলী বলেন, হারুনার রশিদের পরিবারে স্ত্রী, এক বিবাহিত মেয়ে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কন্যা ও চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার পর পুরো পরিবার এখন চরম মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হারুনার রশিদকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share.
Exit mobile version