বাংলার ভোর প্রতিবেদক
পৌষের মিষ্টি সকালে মা আর দাদির সাথে উদীচীর হাতেখড়ি উৎসবে এসেছে আদিয়াত ফাইয়াজ নামে এক শিশু। তালপাতায় অ আ ক খ লেখার আনন্দ তাকে উৎসাহিত করছে। এর আগে কখনও এমন উৎসব করে বর্ণ লেখা শেখা হয়নি তার। বাবা মা দাদা দাদি ফুফুর কাছে বাড়িতে স্লেটে বর্ণ লেখা শেখা শুরু তার। ফাইয়াজ আধো আধো কণ্ঠে বলেন, আমি খুশি। পাতায় অ, আ লিখেছি। অনেক আনন্দ লাগছে।
ফাইয়াজের মতো ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তালপাতায় মাতৃভাষায় বর্ণ লিখে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি হল যশোরে দুই শ’ কোমলমতি শিশুর। উদীচী যশোর পরিচালিত অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের আয়োজনে হাতেখড়ি উৎসবে আলোকিত মানুষ শিশুদের হাত ধরে তালাপাতার উপর লিখে তাদের বিদ্যা অর্জনের শুভ সূচনা করেন। হাতেখড়ি উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকেই ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে বসেছিল শিশুমেলা। শিশুমেলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার আলোকিত মানুষেরা। এ আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শিশুরা শিক্ষা জীবনের শুরুতে দেয়া হলো হাতেখড়ি।
ফারজানা বৃষ্টি নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার যমজ সন্তানকে নিয়ে এসেছি তালপাতার হাতে খড়ি দিতে। এটি প্রশংসিত ও ভিন্নধর্মী আয়োজন। এ ধরণের আয়োজন যশোরে কেউ করে না। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এমন পরিবেশে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। যশোরের বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনে অভিভূত হয়েছেন অন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও।
অতিথিদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্যে শুরু হয় এ উৎসব। এরপর একে একে পরিবেশন করেন উদীচী শিশু শিল্পীদের সংগীত ও দলীয় নৃত্য। এরপর অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন বিভিন্ন গুনিজনেরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যশোরের শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরি। তিনি বলেন, স্কুল জীবনে জ্ঞানার্জনের শুরুতে সার্বজনীন এমন আয়োজন উপস্থিত কোমলমতি শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষার শুরুতে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় উদীচীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। শিক্ষার কারিকরামে উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষা ব্যবসায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে এই শিক্ষাবিদ। একই সাথে এই ধরণের আয়োজন ব্যক্তি উদ্যোগ ছাড়াও সরকারের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু বলেন, গত ১৯ বছর ধরে এ হাতে খড়ি উৎসবের আয়োজন করছে। অতীতে আমাদের শিক্ষাগুরুরা নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে খড়ির মধ্যে দিয়ে তার মঙ্গল কামনা করতো। উদীচী এই আদি সংস্কৃতি ধারণ করে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতীতের সংস্কৃতিটা পৌঁচ্ছে দেয়ার প্রয়াসের মাধ্যমে মঙ্গল কামনা করে। সর্বসাধারণের মধ্যে বিকশিত করতে এ উৎসব আয়োজনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। এদিকে, সমাজের আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়বে আগামির এসব শিশুরা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন, মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, সংবাদপত্র পরিষদ যশোরের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের অধ্যক্ষ শৈলেশ কুমার রায়, সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক সাজেদ বকুল প্রমুখ।

