পাইকগাছা সংবাদদাতা :
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছা ও কয়রা’য় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ত পানি অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় বাঁধ সুরক্ষা, পানি প্রবাহ ও নিস্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গোলটেবিল বৈঠকে এ আহবান হানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণ।
১৭ সেপ্টেম্বরে বৃহস্পতিবার পাইকগাছায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এবং সৃজন প্রকল্প, অগ্রগতি সংস্থার সহযোগিতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-তে আয়োজিত ”বসতি এলাকা ও কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও টেকসই সমাধান” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জোয়ার-ভাটা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, বাঁধের দুর্বলতা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। এর ফলে কৃষি, নিরাপদ পানি, জীবিকা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য-পুষ্টি নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক আ. সবুরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায, কৃষিবিদ মনিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা সুজনের সম্পাদক সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, কযরা পানি কমিটির সভাপতি শাহাবুদ্দিন, পাইকগাছা প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাড. এফএম এ আ. রাজ্জাক, ইউপি চেয়ারম্যান শাওনেয়াজ জুয়েল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিযুষ কান্তি মন্ডল, জাহাঙ্গীর আলম সানা, প্রকল্প ম্যানেজাল আমিনুর রহমান, জাকির হোসেন,ভুক্তভোগী নারী মঞ্জুয়ারাসহ অনেকে।
বৈঠকে বক্তারা আরও বলেন, লবণাক্ততার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে দরিদ্র, প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর ওপর। বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ পানি সংগ্রহ, স্বাস্থ্য, পারিবারিক যত্ন, জীবিকা ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডে এর নেতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
