বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
জরুরি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে বিলম্ব হওয়ায় যশোর শহরের কুইন্স হাসপাতালে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের অভিযোগ, সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে চাইলেও নির্ধারিত সিরিয়াল না থাকায় তা করা হয়নি। পরে পাশের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পর জানা যায় গর্ভের শিশুটি মারা গেছে। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় কুইন্স হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. হাসিনা বানুর বিরুদ্ধে অবহেলা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবারের সদস্য হাফিজুর রহমান। তিনি যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসিন্দা।
হাফিজুর রহমানের ভাষ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছোট বৌমা সিনথিয়া হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত কুইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসক ডা. পলির কাছে তাকে দেখানো হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসক দ্রুত আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালের দুই নারী কর্মী রোগীকে সঙ্গে নিয়ে ডা. হাসিনা বানুর কাছে আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য যান।
হাফিজুর রহমানকে ডা. হাসিনা বানু জানিয়েছেন, সিরিয়াল ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হবে না। রোগীর অবস্থা জরুরি-এ কথা জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, তার দুই ছেলে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়নি।
বরং অন্য কোথাও থেকে পরীক্ষা করিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়। এ সময় আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের কর্মীদের বিরুদ্ধেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরে বাধ্য হয়ে রোগীকে পাশের ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৩৫ মিনিট পর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় গর্ভের শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘একজন চিকিৎসকের কাছে জরুরি রোগীর জীবন আগে, নাকি সিরিয়াল আগে-এ প্রশ্নের উত্তর আমরা জানতে চাই। যদি সময়মতো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হতো, তাহলে হয়তো আমাদের সন্তানকে হারাতে হতো না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কুইন্স হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের নারী কর্মীদের আচরণ নিয়েও তিনি আগে কয়েকবার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রতিকার হয়নি।
এ বিষয়ে কুইন্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ডা. হাসিনা বানুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে কুইন্স হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আকমত আলী দিপুর বিরুদ্ধে রোগীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে রিপোর্ট ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল।
গত ১০ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পর আসমা চৌধুরী কুইন্স হাসপাতালে পরীক্ষা না করিয়ে পাশের ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে কয়েকটি পরীক্ষা করান।
১৭ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং রিপোর্ট ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন আসমা।
এ ঘটনায় তিনি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও দেন।
