বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেয়া, জাল ভিসা সরবরাহ এবং পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগে ঝিকরগাছার বারকপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিম।
তাদের দাবি, শুধু তারা দুজন নন, আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, টাকা লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারা। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও আদম ব্যবসার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।
ওই বক্তব্যের প্রতিবাদেই এ পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তার ছেলে ও শ্যালককে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেনকে মোট চার লাখ টাকা দেন তিনি।
তার ছেলেকে সিঙ্গাপুরের একটি ভিসা দেয়া হলেও পরে সেটি জাল বলে জানতে পারেন। অন্যদিকে তার শ্যালক মিকাইল হোসেনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসা জাল বলে তাকে দেশে ফেরত পাঠায় বলে দাবি করেন ওবায়দুর।
তার অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি। পরে ২০০৭ সালের ১০ মে তিনি সেনা ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এরপর বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে তদন্ত ও শুনানির জন্য পাঠানো হয়। তবে আনোয়ার হোসেন ওই শুনানিতে উপস্থিত হননি বলে দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর রহমান বলেন, “বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেয়ার পর ভিসা দেয়া হয়েছিল। পরে সেই ভিসা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। টাকা ফেরত চেয়েও সমাধান পাইনি। তাই বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করতে হয়েছে।”
অন্যদিকে আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর কথা বলে ২০০৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিন লাখ টাকা, ২০০৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ৫৫ হাজার টাকা এবং একই বছরের ২ এপ্রিল আরও এক লাখ টাকা আনোয়ার হোসেনকে দেন তিনি।
এ সময় তার পাসপোর্টও নেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদেশে যাওয়া তো দূরের কথা, টাকা ও পাসপোর্টও ফেরত পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ২ জুন প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান আব্দুল করিম। তার দাবি, মামলাটি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি আসে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে। ওবায়দুর রহমান ও আব্দুল করিমের দাবি অনুযায়ী, যশোর সদরের তেঘরী গ্রামের ওহায়েদ আলীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা, ঝিকরগাছার মল্লিকপুর গ্রামের মনিরা বেগমের কাছ থেকে তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা, বাগআঁচড়ার কবীরের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা এবং ঢাকার সুলতানার কাছ থেকে ১৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নেয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, তারা কারও সম্মানহানি করতে চান না। বরং ১৬ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হোক।
একই সঙ্গে তাদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় এনে উভয় পক্ষের বক্তব্য, টাকা লেনদেনের তথ্য, পাসপোর্ট, ভিসা, মামলা ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করার দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে রিয়াদ ইসলাম বাপ্পি, মাহবুবুর রহমান সোহেল ও আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
