কপিলমুনি সংবাদদাতা
পাইকগাছায় কপিলমুনিতে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার নামে ভুয়া এনজিওতে চাকরির প্রলোভনে একটি প্রতারক চক্র প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি মাগুরার এনজিও জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থা কপিলমুনি ইউপিতে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওতে হাঁস-মুরগীর উন্নয়ন প্রকল্পে লোভনীয় সম্মানিতে জনবল নিয়োগের একটি চিঠি উপস্থাপন করে। ২০ জানুয়ারি ইস্যুকৃত যার স্মারক নং-৫১/জে,ইউ.এস/২০২৬ চিঠিতে পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের চিহ্নিত করে বলা হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ডভিত্তিক হাঁস-মুগির চিকিৎসার জন্য চাহিদা মোতাবেক একজন করে মহিলা কর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেয়ার জন্য বলা হল।
যাতে ১ জন সুপাভাইজার ও ১১ জন মাঠকর্মী পদের কথা উল্লেখ থাকে। যার প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত লোক নিয়োগ পূর্বক ২৩ জানুয়ারি সকাল থেকে ইউপি মিলনায়তনে ট্রেনিংয়ের কার্যক্রম শুরু করে চক্রটি। ২৪ জানুয়ারি প্রশিক্ষণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে জনপ্রতি ৫/১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বাইশ হাজার পাঁচশত টাকা করে প্রায় ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে।
এবং বলা হয় পরের দিন রোববার এনজিওর মালিক সাবেক এমপি নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত হয়ে নিয়োগকৃতদের মধ্যে নিয়োগপত্রসহ এক মাসের অগ্রিম অনারিয়াম প্রদান করবেন। সে অনুযায়ী পরের দিন ২৫ জানুয়ারি সকলে কপিলমুনি ইউপিতে উপস্থিত হলেও এনজিও কর্মকর্তারা উপস্থিত হননি। বিলম্ব দেখে জনপ্রতিনিধি ও চাকরি প্রত্যাশীরা কতিপয় এনজিও কর্মকর্তাদের দেয়া মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন গাজী, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কাকুলি বিশ্বাসের উপস্থিতিতে বলেন ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য রবীন্দ্রনাথ অধিকারী প্রতারক চক্রকে আত্মীয় পরিচয় দেন। এবং চেয়ারম্যান যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া এনজিও পরিচয় অনুমোদন দিলো কেন? এ দায়ভার এ দুই জনের।
এ ব্যাপারে কপিলমুনির ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাজিয়া সুলতানা জানান, তিনি সুপারভাইজার পদের বিপরীতে তাদেরকে ০১৭২২-৩৮৩৯৬৪ নং মোবাইলে (নগদ) ২২ হাজার ৫ শ’ টাকা প্রদান করেন। সদর কপিলমুনি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবীন্দ্র নাথ অধিকারী জানান, তিনি তার ছেলে-মেয়েদের চাকরির জন্য অগ্রীম ৫ হাজার টাকা ও ২টি মুরগি প্রদান করেন। এভাবে প্রতি চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে নগদ কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অন্তত ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
প্রতারনার শিকার রাজিয়া সুলতানা আরো জানান, প্রতারক চক্রের দু’জনের নাম ফারুক আহম্মেদ ও কাজল বলে পরিচয় দিলেও আসলে তাও ভুয়া। প্রকৃতপক্ষে তিনি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জাতীয় পরিচয়পত্র সার্চ দিয়ে দেখেন মোবাইলের সিমটি ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু থানার ভেড়াখালী এলাকার এক নারীর নামে উত্তোলনকৃত। পরে ওই মহিলার গ্রাম ভেড়াখালীতে গিয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানতে পারেন, প্রতারক ফারুখ আহম্মেদ পরিচয়দানকারীর প্রকৃত নাম আব্দুর রহমান তিনি একজন চিহ্নিত প্রতারক।
এদিকে কপিলমুনি ইউপির পক্ষে ২৬ জানুয়ারি সদর ওয়ার্ডের সদস্য রবীন্দ্রনাথ অধিকারী এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

