বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কনেজপুর গ্রামের আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এখন গ্রামবাসীর দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাজুড়ে হাঁটুসমান কাঁদা সৃষ্টি হয়।
এই কাঁদা মাড়িয়েই প্রতিদিন কনেজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ কিংবা রোগী-কেউই রেহাই পাচ্ছেন না এ দুর্ভোগ থেকে। এমনকি এই রাস্তার কারণে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের এ অবহেলাকে তাই নিজেদের ভাগ্য বলেই মেনে নিয়েছেন কনেজপুরবাসী !
স্থানীয়রা জানান, কনেজপুর গ্রামের টাটা ভাটা থেকে গ্রামের ভেতরের প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তার কোথাও কোথাও এতটাই কাঁদা হয় যে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল নিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষজনের।
কনেজপুর গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক মুক্তার আলী বলেন, টাটা ভাটা থেকে গ্রামের দিকে আধা কিলোমিটার রাস্তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে হাঁটুসমান কাদা হয়। শিক্ষার্থীরা কাদা মাড়িয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, জুতা হাতে নিয়ে কাঁদা পার হতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কেউ শহর বা বাজারে যেতে চাইলেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে এই রাস্তায় চলতে গিয়ে আমি কয়েকবার পড়ে গেছি। শুধু আমার নয়, প্রতিদিনই কেউ না কেউ কাদায় পিছলে পড়ে। শহর বা বাজারে যাওয়ার সময় অনেকেই সঙ্গে অতিরিক্ত কাপড় নিয়ে বের হন। কাদা পার হয়ে অন্য পোশাক পরে তারপর কাজে যেতে হয়।
তিনি আরও বলেন, এই রাস্তার কারণে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতেও সমস্যা হচ্ছে। বাইরের কেউ গ্রামে আসতে চাইলে রাস্তার অবস্থা দেখে বিরক্ত হন। একবার যে এই রাস্তা দিয়ে আসে, সে দুর্ভোগের কারণে গালমন্দ করে।
এছাড়া এ রাস্তাটি দিয়েই সদর কাছারী অর্থাৎ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যেতে হয় ইউনিয়নবাসীকে। তাই বর্ষার দিনগুলোতে জমি সংক্রান্ত কোন কাজে ভোগান্তির অন্ত থাকে না। তখন ভূমি সেবা নিতে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয় সেখানে।
তাছাড়া কাশিমপুর ইউনিয়ন থেকে শহরে যাতায়াতের সবচাইতে কাছের রাস্তা। তাই রাস্তাটির গুরুত্ব অপরিসীম। এমন একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রমাণ করে কতটা অবহেলিত কনেজপুরবাসী। এ অবস্থায় তাদের একটা চাওয়া সড়কটি পাকাকরণ করা হোক।
স্থানীয় গোলাম রব্বানি বলেন, বর্ষায় শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ ও প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষা না বাড়িয়ে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার বা পাকাকরণ করা হোক।
একটি মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার কারণে একটি পুরো গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে আছে এটা মেনে নেয়া যায় না।
কাশেমপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আয়ুব হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বিশেষ তালিকায় টাটা ভাটা থেকে কনেজপুরের এই সড়কটির নাম উঠেছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে রাস্তার উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হবে।
যশোর সদর উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আমাদের কাছে কোনো বরাদ্দ নেই। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ তালিকা তৈরি হচ্ছে। আশা করা যায়, সেখানে এই রাস্তার নাম থাকবে।
