বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শূন্যপদ পূরণের নামে সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা, প্রকাশিত তালিকার বাইরে শিক্ষক বদলি এবং একই শূন্যপদে একাধিক শিক্ষককে পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলি প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্য ও প্রভাবশালীদের তদবিরের অভিযোগও করেছেন একাধিক শিক্ষক। এসব ঘটনায় সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে শূন্যপদ পূরণে পৃথক বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু দুটি আদেশের মধ্যে একাধিক অসংগতি দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে একই বিদ্যালয়ের একই শূন্যপদে দুই শিক্ষককে বদলির আদেশ দেয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জারি করা বদলির আদেশের ১০ নম্বর ক্রমিকে বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেফালী খানমকে শানতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
অথচ এর আগের দিন ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ১২৭৪ নম্বর স্মারকে একই বিদ্যালয়ের শূন্যপদে খুলনার কয়রা উপজেলার পূর্ব মহেশ্বরীপুরে শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অঞ্জনা মণ্ডলকে বদলির আদেশ দেয়া হয়। ফলে শানতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শূন্যপদে দুই শিক্ষককে পদায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে প্রকাশিত শূন্যপদের তালিকায় নাম না থাকলেও বদলির আদেশে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে শূন্যপদ পূরণের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে চাঁচড়া মধুসূদন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ছিল না। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা ১৪৩৫ নম্বর স্মারকে ওই বিদ্যালয়ে মেঘলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পূর্ণেন্দু বর্মনকে বদলি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ৪ অক্টোবর যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমান। তার দাবি, চাঁচড়া মধুসূদন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদের তথ্য তালিকায় থাকলে তিনিসহ সদর উপজেলার অনেক শিক্ষক সেখানে বদলির জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতেন।
তালিকায় বিদ্যালয়ের নাম না থাকা সত্ত্বেও সেখানে শিক্ষক বদলি করায় আবেদনকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একইভাবে মাওলানা শাহ আব্দুল করিম (রহ.) খড়কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শূন্যপদ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। শূন্যপদ পূরণে যশোর সদরের করিচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল এমরানকে ওই বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকার ১৫৮৯ নম্বর স্মারকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাহিদা আফরোজকেও একই পদে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। ফলে একটি শূন্যপদে দুই শিক্ষককে বদলির নির্দেশ দেয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এসব অসংগতির পাশাপাশি বদলি প্রক্রিয়ায় ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর উপজেলার একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলি হতে আগ্রহী শিক্ষকদের কাছ থেকে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও যশোর জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অর্থ নিয়েছেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের তদবিরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, যশোর জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জি এম আলমগীর কবির জেলা সদরসহ আট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্যপদ পূরণের বদলি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। তবে গণমাধ্যমকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে জি এম আলমগীর কবির বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়।
