বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সমাজসেবা কার্যালয়ে যেন একটি মেস বাড়ি!। সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের কথা। অথচ যশোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অফিস চলাকালীন সময়েই উপপরিচালকের কক্ষের পাশের একটি কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গ্যাসের চুলায় করা হচ্ছে দুপুরের রান্না।
চারিপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে রান্নার সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সব উপকরণ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই খাবার রান্নার ব্যবস্থা চলে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। যশোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়, জেলার সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশাসনিক কেন্দ্র এই দপ্তর।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যশোর জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কক্ষের পাশের একটি কক্ষ সংলগ্ন স্থানে রান্নার আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে গ্যাসের চুলায় চলছে তরকারি রান্না। পাশে রাখা রয়েছে হাঁড়ি পাতিলসহ রান্নার বিভিন্ন সরঞ্জাম। অফিসের স্বাভাবিক কার্য়ক্রম চলার মধ্যেই এই রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। যা রীতিমতো হতবাক হওয়ার উপক্রম।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরেই মেস পদ্ধতিতে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন। প্রতিদিন অফিস চলাকালীন সময়েই ওই স্থানে দুপুরের খাবার রান্না করা হয়। সরকারি দপ্তরের কাজ চলার সময়েই একই স্থানে চলছে খাবার রান্না।
কার্যালয়ের অফিস সহকারী আসাদুজ্জামান বলেন, নয়জন কর্মচারীর জন্য মেস পদ্ধতিতে খাবার রান্না করা হয়। প্রতিদিন এভাবে দুপুরের খাবারের রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি অফিসের ভেতরের এমন রান্নার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এনজিওকর্মীরা। তাদের মতে, অফিসের কর্মপরিবেশের মধ্যে নিয়মিত রান্না কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিশেষ করে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষের পাশেই এ ধরনের ব্যবস্থা দৃষ্টিকটুর এবং এতে দাপ্তরিক পরিবেশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এনজিও কর্মী বলছেন, সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবারের প্রয়োজন হতেই পারে। কিন্তু অফিসের ভেতরে, তাও নিয়মিতভাবে এবং অফিস চলাকালীন সময়ে রান্না করার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। রান্নার ধোঁয়া ও গন্ধে অফিসের পরিবেশও নষ্ট হতে পারে।
সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য ছোলজার রহমান বলেন, অফিসের ভেতরে রান্না করে বাড়ির পরিবেশ তৈরি করা কোনোভাবেই একটি সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ হতে পারে না। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেখানে সরকারি অফিসে আসেন, সেখানে অফিসকে অফিসের আদলেই রাখা উচিত।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা দরকার হলেও তার জন্য কি সরকারি দপ্তরের কর্মপরিবেশকে রান্নাঘরে পরিণত করা সমীচীন? বিশেষ করে অফিস চলাকালীন সময়ে এভাবে রান্নার সুযোগ কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অফিসের ভেতরে রান্নার এই ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। দ্রুতই কার্যালয়ের মধ্যে রান্নার ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে বলে জানান তিনি।
