বাংলার ভোর ডেস্ক :
হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকটে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০০টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী। এতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটির শ্রমবাজারের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হামলার পর থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আপাতত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের বিস্তৃত ভূখণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরগুলো সুরক্ষিত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেও ধারাবাহিক হামলা প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে, রিয়াদকেন্দ্রিক ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৫৩ হাজার কর্মী সৌদি আরবে গেছেন। চলতি বছরও দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ফলে সৌদির নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ভিসানীতি কিংবা নিয়োগ কার্যক্রমে পরিবর্তন এলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হুতি ও সৌদি আরবের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে সংঘাত কত দিন চলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ অবস্থায় সৌদি আরবের শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা, ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
