মাগুরা সংবাদদাতা
মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে শহর অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
শনিবার সকালে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শাকের হোসেন ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক কর্মী ও এলাকার পরিচিত মুখ। তাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা পারনান্দুয়ালী গ্রামের ঢাকা রোড এলাকায় সমবেত হন। সেখানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হলে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার অবরোধে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী রোববারের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের বিষয়ে আশ্বাস দেয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
যেভাবে হত্যা করা হয় শাকেরকে
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাকের হোসেন মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে দীর্ঘদিন ধরে মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওই কাউন্টার থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বুধবার রাত ১১টার দিকে নিহতের স্ত্রী শারমীন নাহার (৩৪) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সন্দেহভাজন দুজন গ্রেপ্তার
তদন্তের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ গত ২২ অক্টোবর রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাসভবন থেকে সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান জানান, শাকের হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধার এবং অন্য জড়িতদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
