বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বেনাপোল সাবেক সংসদ সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহ ভারত থেকে দেশে আনা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে মরদেহটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বেনাপোল ও ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কলকাতার দমদম এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই রাজনীতিক। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। স্বজনরা জানান, মৃত্যুর আগে এক সপ্তাহের বেশি সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং শেষ তিন দিন তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, মাল্টি অর্গান ফেইলিওর ও হৃদরোগই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ। মৃত্যুকালে তার পাশে স্ত্রী ও এক কন্যা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জোয়াহেরুল ইসলাম জনচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তিনি ভারতের কলকাতার নিউটাউনে অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছিল। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আনার জন্য কলকাতাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করা হয়। মরদেহটি হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত কলকাতার ‘পিস হেভেন’ হিমাগারে রাখা হয়েছিল।
অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় ‘ভিপি জোয়াহের’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা হয়। ২০২৫ সালের মার্চে এক তরুণী তার পরিবারের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। তার বাড়ি দখল ও ভাঙচুর করার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। পরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বাড়িটি দখলমুক্ত করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার মরদেহ পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই তাকে দাফন করার প্রস্তুতি চলছে। জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরবর্তীকালে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন জানান, আইনি ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

