বাংলার ভোর প্রতিবেদক
শিশুদের প্রাণঘাতী রোগ হাম প্রতিরোধে যশোরে জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। রোববার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শিশুদের টিকা প্রদান করা হয়।

সকাল ৯টায় সদর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বিরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, নানা কারণে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি দেড় বছরের বেশি সময় পিছিয়েছে। একই সাথে অভিভাবকদের ভিতরেও টিকা গ্রহণে অনিহা লক্ষ্য করেছি। কার্যত এবার হামের দুর্ভাগ প্রার্দুভাব বেড়েছে। এটা নিয়ে আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। পর্যপ্ত টিকা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যশোর সদর উপজেলায় ৯০ হাজার শিশুকে টিকা কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে বিভাগের অন্য জেলা উপজেলাতেও সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক দিলদার হোসেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক এবং নোয়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মশিয়ার রহমান বাবলু প্রমুখ।
পরে বেলা ১১টায় যশোর পৌরসভায় দ্বিতীয় টিকাদান কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলায় প্রায় ৯১ হাজার এবং পৌর এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হামপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম দিনে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ছয়টি কেন্দ্র এবং পৌরসভার একটি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হয়।
টিকাকেন্দ্রগুলোতে শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফলভাবে চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলায় হাম-রুবেলা রোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে একজনসহ সন্দেহভাজন নতুন পাঁচজন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরে তিন মাসে ২৫ জনের হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়। এমন অবস্থায় যশোরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়াতে স্বস্তি ফিরেছে অভিভাবকদের ভিতরে।

