বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ অর্থলেদেনের মাধ্যমে ও রাজনৈতিক বিবেচনায় অবৈধভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে রোববার (১০ মে) সকালে উপশহর এলাকায় অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহমেদ সাকিব, উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিনসহ কর্মচারিরা। রাজনৈতিক বিচেনায় এই উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্বজনপ্রীতিও করা হয়েছে। ডি ২০৬ নং বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হলেও পাশের বাড়ি ডি ২০৭ নং বাড়ির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহমেদ সাকিব মোটা অংকের টাকার বিনিমিয়ে ডি ২০৭ নং বাড়ির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেনি। এর আগে সকাল ৯ টার দিকে ডি ২১৩ নং বাড়ির অবধৈ স্থপনা উচ্ছেদ করা হয়। বাড়ির মালিক আবু সাত্তার জানান, বাড়ি ভাঙার আগে তাদেরকে লিখিত কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। উচ্ছেদের সময় তাদের সাথে দুর্ব্যবহারও করা হয়।
তার বাড়ির ভাড়াটিয়া সুজাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। যদিও কর্তৃপক্ষ জানায় ৯ মে এলাকায় মাইকিং করে অবেধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য ৪৮ ঘন্টা সময় দেয়া হয়। অথচ ৪৮ ঘন্টা পূর্ন হওয়ার আগেই অবৈধ ভাবে বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। ডি ২১২ নং বাড়িটিও ভাংচুর করা হয়। সি ব্লকের ২৪৫ নং বাড়িটিও পূর্বে নোটিশ প্রদান ছাড়াই ভেঙ্গে ফেলা হয়। বেশির ভাগ বাড়ির মালিক বাড়ি থেকে আসবাবপত্র ফার্নিচারসহ তাদের মূল্যবান মালামাল সরাতে পারেননি। ফলে তাদের টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র ফার্নিচার ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে মোটা অংকের টাকা ক্ষতি হয়েছে। উপশহর এ ব্লক মোড়ে আরো একটি বাড়ি নোটিশ প্রদান ছাড়াই অবৈধ ভাবে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ বাড়ির মালিক তাদের মালামাল সরাতে পারেননি। এতে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের সময় প্রায় অর্ধশত বাড়ি ঘর পূর্বে নোটিশ প্রদান ছাড়াই অবৈধ ভাবে ভাংচুর করা হয়। ভাংচুরের সময় মানুষের আর্তনাদ ও আহাজারিতে উপশহর এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।
এদিকে উপশহর এলাকার বাড়ি ঘর অবৈধভাবে ভাংচুর করা হলেও সরকারি ফুটপথ দখল করে গড়ে ওঠা বাবলাতলার অবৈধ বাজার উচ্ছেদ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহমেদ সাকিব, উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া সরকারি ফুটপাথের এক একটি জায়গা ২ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এই অবৈধ বাজার থেকে আশিক আহমেদ সাকিব ও উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া প্রায় অর্ধ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য করছেন। যে কারণে সরকারি ফুটপাথ দখল করে অবৈধ বাজার গড়ে তুললেও এটি উচ্ছেদ করা হয়নি। আশিক আহমেদ সাকিব যশোরে যোগদানের পর অবৈধ দখলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
তার এ কাজে সহযোগিতা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া। অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান যশোর পলিটেকনিক কলেজ থেকে ডিপ্লোমা পাশ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে চাকরি নেন। অধ্যায়নকালিন সময় তিনি বিএনপির ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ওই সময় তিনি ছাত্রদলের পলিটেকনিক শাখার নেতা ছিলেন। সে কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে তার সখ্যতা থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় তিনি বিএনপি সমর্থিতদের অবৈধ স্থপনা বাড়ি ঘর ভাংচুর না করে এড়িয়ে যান।
এলাকাবাসীর দাবি উপশহর সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। কিছু স্থাপনা ভাঙ্গা হবে কিছু ভাঙ্গা হবে না। এই স্বজন প্রীতি মেনে নেয়া হবে না। অন্যথায় জাীতয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

