আব্দুল কাদের, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছা উপজেলার দশপাখিয়া থেকে বাড়িয়ালীর দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। এ সড়কটি সংযুক্ত করছে দুটি ইউনিয়নকে। দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র ২ কিলোমিটার সড়কটি আজও রয়ে গেছে কাঁচা। পিচ ঢালাই তো দূরে থাক, কখনো সলিংও হয়নি।
জানা গেছে, বর্ষায় কাদা, গ্রীস্মে ধুলো-এই যন্ত্রণা সয়ে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন যাপন করে চলেছে বছরের পর বছর। পাশাপোল ও ফুলসারা ইউনিয়নকে যুক্ত করা এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন কৃষক, ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী যাতায়াত করেন। সড়কের বেহাল দশার কারণে ২ কিলোমিটারের এ পথ পাড়ি দিতে ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরতে হয় তাদের। সেই সাথে এ পথেই পাঁচ হাজার বিঘা জমির ফসল ঘরে ওঠে। দশপাখিয়ায় আছে বাজার, পুলিশ ফাঁড়ি, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাড়িয়ালীতে আছে প্রাইমারি স্কুল, ভূমি অফিস, পরিবার পরিকল্পনা কাযালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাফেজিয়া মাদ্রাসা। যেসব স্থানে সেবা নিতে দুই এলাকার মানুষকে প্রতিদিন এই পথেই আসা-যাওয়া করতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদায় একাকার সড়কে পায়ে হাঁটাও দায়। গরুর গাড়ি ছাড়া উপায় থাকে না। শুকনো মৌসুমে ধুলার চাদরে ঢাকে পুরো এলাকা। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া ওঠে আরো ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়িয়ালী হাউলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘স্কুল ২ কিলোমিটার দূরে। রাস্তা খারাপ বলে ফুলসারা-সলুয়া হয়ে ১২ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে স্কুলেই যেতে পারি না।’ দশপাখিয়া প্রাথমিকের শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন বলে, ‘কাঁদার মধ্যে পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় বই খাতা ভিজে যায়।’ বাড়িয়ালী বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, ‘মাল আনা-নেয়ার ভ্যান ভাড়া তিনগুণ।
রোগী মারা গেলেও সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারি না।’ গৃহবধূ রাশেদা বেগমের আক্ষেপ, ‘গর্ভবতী নারীদের এই পথে নেয়া ঝুঁকি। আমরা কি মানুষ না?’ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় সড়কে মাইল মিটার বসানো হয়েছিল। কার্পেটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন চেয়ারম্যান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ কেটে নিজ গ্রামে কাজ সরিয়ে নেন। এতে দশপাখিয়া-বাড়িয়ালী অংশ অবহেলিত থেকে যায়।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, আপ্রাণ চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা হাজী শাহ্ আলম বলেন, ‘দুই কিলোমিটারের জন্য ১২ কিলোমিটার ঘোরা আর কতদিন? নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতি, ভোট শেষে সব ভুলে যায়।’
চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘সড়কের দৈর্ঘ্য ২ কিলোমিটার। আমাদের হাতে বর্তমানে কোনো প্রকল্প নেই। তবে এমপি মহোদয়ের থোক বরাদ্দের কাজ আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠাবো। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।’
পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, ‘রাস্তাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বারবার উপজেলায় বলেছি। বরাদ্দ আসে না। কেন আসে না, বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাই ভালো বলতে পারবেন।’
এ অবস্থায় সড়কের অভাবে হাজারো মানুষের জীবন থমকে আছে। কবে শেষ হবে এই দুর্ভোগ- সেই উত্তর খুঁজছে দশপাখিয়া-বাড়িয়ালীর মানুষ।

